সোনারগাঁ জাদুঘরের লেক শুকিয়ে চৌচির, হতাশ দর্শনার্থীরা

দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় ও ক্রমাগত খরার কারণে শুকিয়ে গেছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁ জাদুঘর) মনোরম লেক। লেকটির তলদেশ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জাদুঘরে আগত দর্শনার্থীরা শুকনো লেক দেখে অনেকটাই হতাশ। এ লেকে দর্শনার্থীদের জন্য নৌ-বিহারের ব্যবস্থা থাকায় অনেকেই এখানে উৎসাহ নিয়ে ঘুরতে আসেন। তাছাড়া এই লেকে মাছ শিকারেরও ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু লেকটি শুকিয়ে যাওয়ায় গত প্রায় তিন মাস ধরে মাছ শিকার ও নৌ-বিহার দুটিই বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দর্শনার্থীরা শুকনো লেকে নেমে ঘুরাঘুরি করছেন। নৌ-বিহারের নৌকাগুলো লেকের তলানিতে পড়ে আছে। নৌকায় বসে কেউ কেউ ছবি তুলছেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে জাদুঘরে ঘুরতে আসা পর্যটক ইকবাল মিয়াজী বলেন, ‘সোনারগাঁ জাদুঘর এখনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানকার লেকটি এ সৌন্দর্যকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এটি শুকিয়ে যাওয়ায় সৌন্দর্যহানি হয়েছে। অবিলম্বে লেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা উচিত।’

স্থানীয়রা জানান, এ লেকে বড় বড় অনেক মাছ ছিল, যার আকর্ষণে মাছ শিকারিরা এখানে মাছ ধরতে আসতেন। এ ছাড়া এখানে বড় প্রজাতির অনেক কাছিম ছিল। খরার পাশাপাশি দীর্ঘদিন খনন না করায় লেকটি শুকিয়ে গেছে বলে জানান তারা। অন্যান্য বছর গভীর নলকূপ দিয়ে লেকের পানি ঠিক রাখা হলেও এ বছর তা করা হয়নি।

ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে লেকের পানি কমে যায়, তবে এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় লেকটি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে গেছে। লেকের মাছ নিরাপদে ফাউন্ডেশনের গভীর পুকুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্রকৃতি ও পরিবেশ সংগঠক কবি শাহেদ কায়েস বলেন, ‘সোনারগাঁ জাদুঘরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মূল আধার হচ্ছে এ লেকটি। এখানে নানা প্রজাতির মাছ ছাড়াও বিভিন্ন জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ ও জলজ পাখির আবাস ছিল। এটি এখন পুরোপুরিই নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত এ লেক খনন করে আবার এর প্রকৃত রূপ ফিরিয়ে না আনলে এখানকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।’

লেকে নৌ-বিহারের ইজারাদার ফজলুল হক বলেন, ‘এক বছর মেয়াদে ৪ লাখ ৮২ হাজার ২০০ টাকায় নৌ-বিহারের ইজারা নিয়েছি। কিন্তু গত তিন-চার মাস ধরে লেকটি পানিশূন্য থাকায় নৌ-বিহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।’ বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর অতিরিক্ত খরার কারণে লেকটি শুকিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। লেকটি খনন করার জন্য ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায় দ্রুতই তা বাস্তবায়ন হবে।’