মেটালিকার সাফল্যের শুরু মূলত তাদের তৃতীয় অ্যালবাম 'মাস্টার অব পাপেপট' দিয়ে। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত অ্যালবামটিকে এখনও মেটালিকার অন্যতম সেরা অ্যালবাম হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ সালে আসে তাদের পঞ্চম ও সেলফ-টাইটেলড অ্যালবাম। ধারণা করা হয়- এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া কোনো হেভি মেটাল অ্যালবাম।
১৯৮১ সাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের দ্য রিসাইক্লার সাময়িকীতে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলো। বিজ্ঞাপনের ভাষা অনেকটা এরকম―একজন ড্রামার মেটাল ব্যান্ডে জ্যাম করা বা বাজানোর জন্য কয়েকজন মিউজিশিয়ানকে খুঁজছে।
সাড়া ফেলল বিজ্ঞাপনটি। ড্যানিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন ড্রামার ও মিউজিশিয়ান লারস উলরিচের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হলেন হেভি মেটাল 'গ্যারেজ রক ব্যান্ড' লেদার চার্ম-এর গিটারিস্ট জেমস 'পাপা' হেটফিল্ড এবং হুগ টার্নার।
তবে তড়িঘড়ি করে ব্যান্ড ফর্ম করলেন না লারস উলরিচ। সময় নিলেন। প্রথমে একটি সিঙ্গেল প্রকাশ করে দেখতে চাইলেন- কেমন গান করতে পারবেন তারা।
অতঃপর ২৮ অক্টোবর ১৯৮১ অফিসিয়ালি গঠিত হলো টানা ৪২ বছর ধরে পৃথিবীর হেভি মেটাল হার্ড রক জগতে ছড়ি ঘোরানো সুপার গ্রুপ মেটালিকা। প্রথম সাক্ষাতের ছয় মাস পর লারস উলরিচ ও জেমস হেটফিল্ড ফর্ম করলেন ব্যান্ডটি। ড্রামার হলেন লারস উলরিচ আর জেমস 'পাপা' হেটফিল্ড গান গাওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নিলেন, সেই সঙ্গে বাজানোর সিদ্ধান্ত নিলেন রিদম গিটার।
মেটালিকা নামটি দিয়েছেন লারস উলরিচের এক বন্ধু- রন কুইন্টানা। তিনি দুটি নাম প্রস্তাব করেছিলেন- মেটাল ম্যানিয়া এবং মেটালিকা, এ দুটি থেকে সহজ উচ্চারণযোগ্য মেটালিকাই বেছে নিলেন তারা।
এবার লাগবে গিটারিস্ট। তাই আবারও বিজ্ঞাপন। সাড়া দিলেন ডেভিড স্কট মাস্টেইন বা ডেভ মাস্টেইন। যিনি মেটালিকা ছাড়ার পর গড়ে তোলেন 'আশির সেরা চার' (মেটালিকা, মেগাডেথ, অ্যানথ্র্যাক্স ও স্লেয়ার) হেভি মেটাল গ্রুপ-এর আরেকটি ব্যান্ড 'মেগাডেথ'। তিনি ছিলেন ওই ব্যান্ডের ফাউন্ডার, ফ্রন্টম্যান।
১৯৮২ সালের মেটালিকা তাদের প্রথম সিঙ্গেলের কাজ শুরু করে। এটা ছিল একেবারেই তাদের নিজস্ব আয়োজন।
ডেথ মেটাল বাদে মেটাল ঘরানার প্রায় সব অঙ্গনেই পা রেখেছে মেটালিকা। হেভি মেটাল, থ্র্যাশ মেটাল, গ্রুভ মেটাল, স্পিড মেটাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেটাল, গ্ল্যাম মেটাল, প্রোগ্রেসিভ মেটাল, পাওয়ার মেটাল এবং অল্টারনেটিভ মেটাল- এসব ধরনের মেটাল গানই গেয়েছে এবং জনপ্রিয় করেছে মেটালিকা। গত ৪২ বছরে গানের জগতে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে মেটাল গানের এই হেভি ডিউটি পাওয়ার হাউজ।
মেটালিকার সাফল্যের শুরু মূলত তাদের তৃতীয় অ্যালবাম 'মাস্টার অব পাপেপট' দিয়ে। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত অ্যালবামটিকে এখনও মেটালিকার অন্যতম সেরা অ্যালবাম হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ সালে আসে তাদের পঞ্চম ও সেলফ-টাইটেলড অ্যালবাম। ধারণা করা হয়- এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া কোনো হেভি মেটাল অ্যালবাম।
১৯৮৩ সালে ডেভ মাস্টেইন দলত্যাগ করার পর মেটালিকায় যোগ দেন কার্ক হ্যামেট। এখনও দিব্যি আছেন। অপরিহার্য করে তুলেছেন নিজেকে। স্টেজ পারফরমেন্সে তার অবিশ্বাস্য গিটার প্রদর্শনী অনুরাগীদের মুগ্ধ করে। তবে বেশ কয়েকবার বেজ-বদল হয়েছে মেটালিকায়। রন ম্যাকগোভনি, ক্লিফ বার্টন আর জেসন নিউস্টিড-এর পর শেষে ২০০৩-এ থিতু হন মেক্সিকান নেটিভ অ্যামেরিকান রবার্ট ট্রুজিলো।
মেটালিকা নিয়ে শেষ কিছু কথা
মেটালিকা নিয়ে এই তথ্যগুলো জেনে রাখা জরুরি। মেটালিকার আছে ১১টি স্টুডিও ও চারটি লাইভ অ্যালবাম। আছে ১২টি ভিডিও ও একটি কাভার অ্যালবাম। সঙ্গে আছে ৩৭টি সিঙ্গেল এবং ৩৯টি মিউজিক ভিডিও।
৯ বার গ্র্যামি জিতেছে মেটালিকা, ২৩বার নমিনেটেড। পৃথিবীর সংগীত ইতিহাসে বাণিজ্যিকভাবে অন্যতম সফল ব্যান্ড মেটালিকা। রোলিং স্টোন-এর 'পৃথিবীর সেরা ১০০ শিল্পীর তালিকা'য় ৬১ নম্বরে আছে তারা।
এ ছাড়া তাদের অন্য সাফল্যের গল্পগুলো আজ থাক, অন্য আরেক দিন বলব।
গানের গল্প: স্যাড বাট ট্রু
১৯৯১ সালে প্রকাশিত মেটালিকার সেলফ-টাইটেলড অ্যালবামের একটি গান 'স্যাড বাট ট্রু'। এটি ছিল মেটালিকার পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম এবং গানটি প্রকাশিত বা অবমুক্ত হয় ১৯৯৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, এই অ্যালবামের পঞ্চম এবং শেষ সিঙ্গেল হিসেবে। এখানে সবচেয়ে মজার ইনফরমেশনটা হলো- গান প্রকাশের আগেই এর মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশ করে মেটালিকা।
এটিকে কী ধরনের গান বললে এর ভক্তরা খুশি হবেন, তা বলা মুশকিল। এটি মূলত একটি অ্যাগ্রেসিভ লাভ ব্যালাড। লারস উলরিচ এবং জেমস 'পাপা' হেটফিল্ডের লেখা গানটি শোনেনি এমন হেভি মেটাল ভক্ত পাওয়া মুশকিল।
গানটিতে রয়েছে কর্কশ ভয়েস, হেভি সাউন্ডেড ড্রামস, দ্রুতগতির গিটার সলো এবং আগ্রাসী বেজওয়ার্ক। আর সবচেয়ে আকর্ষক এর লিরিক, যা অনবদ্য ও অতুলনীয়। লিরিকের ক্ষেত্রে সব সময়ই চুজি ব্যান্ডটি এ গানটিতে তাদের লিরিকের সব মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
৫ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের এই ব্যালাডে অতিথি গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন 'নাথিং এলস ম্যাটারস'-এ কাজ করা মেটাল চার্চ ব্যান্ডের গিটারিস্ট জন মার্শাল।
দেশ রূপান্তর-এর পাঠকদের জন্য মেটালিকার 'স্যাড বাট ট্রু' রইল নিচে। সেই সঙ্গে বুঝেশুনে শোনার আহ্বান রইল।