শিলাজিৎ মজুমদার—গায়ক, গীতিকার ও সুরকার। অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত তিনি। ভাষা, শব্দ আর সুর নিয়ে তার এক্সপেরিমেন্ট শ্রোতাদের কাছে আকর্ষণীয়। সাধারণত অন্যের লেখা গানে খুব কমই পাওয়া যায় তাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশের গীতিকার গালিব সর্দারের লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শিলাজিৎ। ‘ভেঙে গেলো স্বপ্ন আমার, শব্দ হলো না/ ভাঙল কত ঘুম, কেউ শুনতে পেল না’—এমন কথার গানটির সুর করেছেন শাদিউল আলম জীবন। সংগীতায়োজন করেছেন বাবি।
কলকাতার নিয়োগী'স প্লেসে গানটির রেকর্ডিং হয়েছে। নান্দনিক ভিডিও নির্মাণের কাজটি করেছেন রাহী আবদুল্লাহ ও তার টিম, যা গানচিল মিউজিক থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে দুই বাংলার অনেক খ্যাতিমান শিল্পীর কণ্ঠে শোনা গেছে গালিব সর্দারের লেখা গান।
বাংলা গানে শিলাজিতের আবির্ভাব ১৯৯৪ সালে। প্রথম অ্যালবাম ‘ভূমিকা’ প্রকাশের পর বড়সড় বদল আসে বাংলা গানের ধারায়। এ অ্যালবামের গানগুলোর বিষয়, সুর আর শিলাজিতের দরাজ কণ্ঠ চমকে দেয় শ্রোতাদের। সবাই অবাক হয়ে লক্ষ্য করে, কীভাবে পাখির ডাক, রেডিওর ধারাভাষ্য, জেনারেটরের শব্দ, হকারের চিৎকার হয়ে ওঠে সংগীতের অনুষঙ্গ।
ভূমিকার পর ‘আমরাও বেঁচে আছি’, ‘এক্স ইকুয়্যালটু প্রেম’, ‘সর্বনাশ’, ‘ফিসফিস’সহ সব অ্যালবামেই বজায় থেকেছে শিলাজিতের স্বতন্ত্র ধারা। ‘যা পাখি উড়তে দিলাম তোকে’, ‘তোদের ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা’, ‘ধরব ধরব করছি কিন্তু ধরতে পারছি না’, ‘ঝিন্টি তুই বৃষ্টি হতে পারতিস’, ‘সর্বনাশ’—তার জনপ্রিয় গান। পাশাপাশি হেমলক সোসাইটি সিনেমার ‘জলফড়িং’, বহুরূপী সিনেমার ‘তুই ক্যানে এলি সরোবরে’সহ বেশ কিছু সিনেমার গানে পাওয়া গেছে শিলাজিৎকে।
গীতিকার গালিব সর্দার বলেন, ‘শিলাজিতের সঙ্গে আমার ২০ বছরের বেশি সময়ের পরিচয়। সম্পর্কের খাতিরে হয়তো আগেই আমার লেখা গানে পেতাম তাকে। কিন্তু আমি সেটা চাইনি। এমন একটা গানের খোঁজে ছিলাম, যেটা শিলুদার সঙ্গে যায়। ‘ভেঙে গেলো’ গানটি লেখার পর মনে হয়েছিল, এটা তাকে শোনানো যেতে পারে। গানটি শিলুদাকে পাঠানোর পর তিনি খুবই পছন্দ করেন।
