নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৪ জন ছাত্রী এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। শিক্ষকরা বলছেন, ফরম পূরণ করার পর গত চার মাসে ওইসব ছাত্রীর অধিকাংশেরই বিয়ে হয়ে গেছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৪৭টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১৬টি মাদ্রাসা ও দুটি স্বতন্ত্র কারিগরি স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তিন হাজার ৮৭৯ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। তাদের মধ্যে ৮৯ জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ জন ছাত্রী ও ৪৫ জন ছাত্র। উপজেলার গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রউফ বলেন, ‘চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ৪৪ জন ছাত্রী অংশ নেয়নি। এসব ছাত্রীদের অধিকাংশ বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে।’
বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়, তারা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গত নভেম্বরে ফরম পূরণ করে। পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ হওয়ার পর গত এপ্রিলে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, ‘এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠানের চার ছাত্রী ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তাদের প্রত্যেকের বাল্যবিয়ে হয়েছে। আমরা বাল্যবিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পরিবারের অসহযোগিতায় তা সম্ভব হয়নি।’
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করার জন্য জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান। সমাজের গণ্যমান্য ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এ কমিটির সদস্য।
বাল্যবিয়ে ঠেকাতে উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলার জোয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, ‘এসব বিয়ে গোপনে দেওয়া হয়। যখন খবর পাই, তখন আটকানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাল্যবিয়ে রেজিস্ট্রি করতে কাজিদের নিষেধ করা হয়। তারপরও বাল্যবিয়ে থামানো যাচ্ছে না।’
উপজেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের এক হিসাবে জানা যায়, গত এক বছরে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ১৪টি বাল্যবিবাহ ঠেকিয়েছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একটি করে মোট নয়টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব গঠন করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘৪৪ ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি এমন তথ্য পেয়েছি। বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সমাজের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’