বন বিভাগের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) বা অনাপত্তি সনদ ছাড়াই দেশে আনা চার প্রজাতির ৬৯টি পাখি উদ্ধার করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেট ইউনিট।
ইউরোপের বেলজিয়াম থেকে আনা এই পাখিগুলো গত ১২ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত পাখিগুলো ঢাকার প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয় বিমানবন্দর কাস্টসম কর্তৃপক্ষ।
পরে শনিবার (২০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি দল পাখিগুলো গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়। পরে পার্ক কর্তৃপক্ষ পাখিগুলো পার্কের পশু চিকিৎসালয়ের পাশে একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে দেয়।
ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক নিগার সুলতানা জানান, বিনা অনুমতিতে এ পাখিগুলো আমদানি করেছিল বাংলাদেশের থ্রি টি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি পশুপাখি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। বিমানযোগে ইউরোপের বেলজিয়াম থেকে মহামূল্যবান পাখিগুলো আনা হয়।
পাখিগুলার মধ্যে সাইটিস-১ এর হায়াসিন্থ ম্যাকাও, সাইটিস- ২ এর তৌকানট, গ্রে পেঁচা ও লাভবার্ড।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ মে বেলজিয়াম থেকে মাস্টার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে আনা হয় পাখিগুলো। এনওসি না থাকায় এগুলোকে অবৈধ আমদানি বলে নিশ্চিত করেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অবৈধভাবে পাখিগুলো আমদানির করার দায়ে ওই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ৭২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সাফারি পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার আনিসুর রহমান জানান, পার্কে পশু চিকিৎসালয়ের পাশে একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে পাখিগুলা রাখা হয়েছে। এখানে নিয়মিত পাখিদের পর্যক্ষেণ করা হচ্ছে। চলছে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা কার্যক্রম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমরা পাখিগুলো গ্রহণ করেছি। আপাতত পার্কের পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে সেগুলো। নিয়ে আসা পাখিগুলোর স্বাস্থ্যগত অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।সময়মত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।