স্বৈরতন্ত্রের তকমা প্রত্যাখ্যান

২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসার পর সময়ের সঙ্গে আরও ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছেন রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। ২০০৭ সালে  প্রধানমন্ত্রী-শাসিত ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট-শাসিত ব্যবস্থা চালু করেন তিনি। এরপর নিজের প্রবর্তিত এ শাসনব্যবস্থায় ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে) এই নেতা।

তুরস্কের রাজনীতিতে রক্ষণশীল-গণতন্ত্রী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে একে পার্টি। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো এরদোয়ানের ক্ষমতায় টিকে থাকার পেছনে তুর্কি রক্ষণশীল মুসলিম জনমতের সমর্থনকে মূল কারণ বলে মনে করে। তাকে আরও শক্তিশালী করে ২০১৬ সালের এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান, মুষ্টিমেয় কিছু সেনাসদস্য প্রেসিডেন্টকে উৎখাতের চেষ্টা করেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর বাকিরাসহ এরদোয়ান সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এসে অভ্যুত্থান ঠেকিয়ে দেয়। জনতার হাতে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সেনাদের লাঞ্ছিত হওয়ার ছবি ফলাও করে প্রকাশ করে তুর্কি গণমাধ্যম। ক্ষমতার ভিত মজবুত হয় এরদোয়ানের।

সব মিলিয়ে ২০ বছর ধরে তুরস্কের ক্ষমতায় এরদোয়ান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফায় গড়ানো নির্বাচনে জিতে তিনি ফের তুরস্কের মসনদে বসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন আদায় করতে পেরেছেন তিনি, জাতীয়বাদী নেতা ও সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিনান ওগানের সমর্থন এখন এরদোয়ানের পক্ষে।

কিন্তু পশ্চিমারা তাকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না এ অভিযোগ করে আসছেন এরদোয়ান। তার এমন অভিযোগ যে ভিত্তিহীন তাও বলা যায় না, কারণ পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে এরদোয়ানবিরোধী প্রচারণাও তুঙ্গে। পশ্চিমা গণমাধ্যমে এরদোয়ানকে কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরশাসকের তকমা দিয়ে আসছে। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে তাই পশ্চিমা প্রচারণার জবাব দিয়েছেন এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ‘আমি যদি কর্র্তৃত্ববাদীই হতাম তাহলে তো প্রথম ধাপেই প্রেসিডেন্ট হতাম। নির্বাচনের রাতে আমাদের সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ছলনাময় মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন চালানো হয়েছে। আমরা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে এই সব দাবি ছুড়ে ফেলে দিয়েছি। স্বৈরতন্ত্রের দাবিটি যে ভুয়া সেটি আমরা প্রমাণ করেছি।’ 

দেশে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা এরদোয়ান পরবর্তী সময়ে ইউরোপ-এশিয়ার মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দেশ তুরস্ককে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শক্তিশালী ভূমিকায় বসিয়েছেন। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো সদস্য হয়েও এরদোয়ানের তুরস্ক পশ্চিমাদের মাথাব্যথার কারণ। তার নেতৃত্বে তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলছে। তারা ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমাদের মতো রাশিয়াবিরোধী পথে হাঁটেনি বরং কৃষ্ণসাগর শস্যচুক্তিতে রাশিয়াকে রাজি করিয়েছে। এদিকে ন্যাটোর সম্প্রসারণেও তুরস্ক পশ্চিমের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বৈশ্বিক এ বাস্তবতায় তুরস্কে ২৮ মে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে। ভোটে প্রমাণ হবে তুরস্কের জনগণ এরদোয়ানকে কতটা চায়।