‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল। ভারতে প্রথম রেডিও স্টেশন চালু করা হবে। একটা ভালো নাম দরকার। কর্তৃপক্ষ কবিগুরুর শরণাপন্ন হলেন। রবিঠাকুর কী এক রচনায় ব্যস্ত ছিলেন। অনুরোধ শুনে মুহূর্তেই একটা নাম বলে আবার নিজের লেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। নাম দিয়েছিলেন ‘আকাশ বাণী’। তখন থেকেই ভারতের রেডিওর নাম হয়ে গেল ‘আকাশ বাণী’। নামকরণ তো হলো। এখন একটা সূচনা সংগীত দরকার উদ্বোধন করার জন্য। অগত্যা কর্তৃপক্ষ আবারও কবিগুরুর শরণাপন্ন হলেন। আবদার শুনে কবিগুরু হেসে বললেন, ‘আমি যদি সব করি, তাহলে পাগলায় করবে কী। পাগলার কাছে যাও। ও করে দেবে।’ পাগলা কাকে বলেছিলেন? বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।
কর্তৃপক্ষ কাজী নজরুলের কাছে গিয়ে হাজির হলেন। এখন বিদ্রোহী কবি তো ফরমায়েশি কাজ করেন না, কখনো পাত্তা দিতেন না এসব। তিনি শুনেই না করে দিলেন। হতাশ কর্তৃপক্ষ আবার কবিগুরুর কাছে গেলেন। সব শুনে তিনি বললেন, ‘ও তো পাগলা। এভাবে তো করবে না। ওকে আমার কথা বল আর একটা হারমোনিয়াম দিয়ে একটা ঘরে আটকে রাখ। ও করে ফেলবে।’ তারাও ভয়ে ভয়ে তাই করলেন। এক দিন যায়, দুই দিন যায় কিছুই হয় না। তিন দিনের মাথায় বিদ্রোহী কবি একটা গান রচনা করে তাকে অবমুক্ত করতে বললেন। বলা বাহুল্য, সেই গান দিয়েই আকাশ বাণীর উদ্বোধন হয়েছিল। বিখ্যাত সেই গানটি ছিল ‘আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়/ আমার কথার ফুল গো/ আমার গানের মালা গো/ কুড়িয়ে তুমি নিও।’
বিদ্রোহী কবি, প্রেমিক কবি, সর্বকালের রকস্টার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মবার্ষিকীতে কবিকে ভালোবাসা!’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে তাকে এভাবেই ফেসবুকের পাতায় স্মরণ করলেন নির্মাতা আশফাক নিপুণ।