সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত ৬টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলবাসীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে প্রায় ৭ বছর আগে দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়া হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স দুটির কোনো সুফল পায়নি চরবাসী। অযতœ, অবহেলা ও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি খরচ সরবরাহ না করায় অ্যাম্বুলেন্স দুটির একটি পুরোপুরি নষ্ট ও আরেকটি আংশিক নষ্ট হয়ে কাজিপুর সদর ইউনিয়নের মেঘাই নৌঘাটে পড়ে আছে। ফলে ৬ ইউনিয়নের প্রায় ২ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজিপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মধ্যে ৬টি ইউনিয়নই যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে অবস্থিত। এসব চরের বাসিন্দাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র ও অভাবী মানুষ। এদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে হয়। চরে যে দুটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে তাতে জনবল ও চাহিদানুযায়ী ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সুচিকিৎসার অভাবে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে শহরে ছুটতে হয়। নৌকা ছাড়া যাতায়াতের বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই অকাল মৃত্যুরোধে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত শহরের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ২০১৪ ও ২০১৬ সালে দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সের আউট সোর্সিংয়ের আয় থেকে একজন চালক নিয়োগ রয়েছেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স দুটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় চালক কোনো কাজ না করেই সব সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন।
কাজিপুর সদর ইউনিয়নের ক্ষুদবান্ধী গ্রামের জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিয়েছেন চরের মানুষ তা জানেই না। এ বিষয়ে কখনো কোনো প্রচারও শুনিনি। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার কাজে এগুলো কখনো ব্যবহার করতে দেখিনি।’
রেহাইশুড়িবেড় গ্রামের মাসুদ রানা বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে ভাড়া করা ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগায় অনেক সময় শিশু, বয়স্ক ও প্রসূতি রোগী নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা থাকার বিষয়টি আমরা কেউ জানি না।’
চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য জেলা সদরে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই আধুনিক নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকা খুবই প্রয়োজন।’
নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খায়রুল কবির বলেন, ‘রোদ-বৃষ্টির মধ্যে নৌকায় পারাপারের সময় রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোগীদের এ দুর্ভোগ লাঘবে এখানে উন্নতমানের একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স থাকা জরুরি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমেনা পারভীন পারুল বলেন, প্রথম নৌ-অ্যাম্বুুলেন্সটি অকেজো হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়টি এখনো সচল আছে। গত ৭/৮ মাস আগে সংস্কার করা হয়েছে। তবে এটি ধীরগতির হওয়ায় চরবাসীর মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়নি। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি বরাদ্দ না পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি লিখিতভাবে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। ফলে এটা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।’