আজমত উল্লা গণভবনে জায়েদা টুঙ্গিপাড়ায়

সদ্য সমাপ্ত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল রবিবার বিকেলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দেখা করেন। এ সময় আজমত উল্লা তার লেখা দুটি বই প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন বলে তার উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানিয়েছেন।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র জায়েদা খাতুন গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

আজমত উল্লা খান গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় তাকে উপহার দেওয়া বই দুটি হলো ‘রাজনীতির মহাকবি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বগুণ আদর্শ ব্যক্তি ও জাতি গঠনে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত’।

‘রাজনীতির মহাকবি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইটিতে বঙ্গবন্ধুর বংশপরিচয়, কেন তিনি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা, বঙ্গবন্ধুর ইসলামি মূল্যবোধ ও চেতনা, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সংগ্রাম, শেখ মুজিব ঘোষিত ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও শেখ মুজিবের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলনে গাজীপুরসহ শিল্পনগরী টঙ্গীবাসীর ভূমিকা, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন মুজিবনগর সরকার ও বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বগুণ আদর্শ ব্যক্তি ও জাতি গঠনে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত’ বইটিতে বঙ্গবন্ধু : নেতা ও নেতৃত্বগুণের জীবন্ত কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, শেখ মুজিবুর রহমানের দায়িত্ববোধ ও সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বগুণ থেকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও শিক্ষা, শেখ মুজিবুর রহমানের সহনশীলতা ও দক্ষতা, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বগুণের পরিচয় ও জাতি গঠনের প্রেরণা, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও জাতীয় নেতৃত্বের প্রতীক, ৭ মার্চের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তুতি, ২৫ মার্চের মধ্যরাতেই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি তুলে ধরা হয়।

জন্মগতভাবে আওয়ামী লীগ করেন বলে দাবি জাহাঙ্গীরের : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে মা জায়েদা খাতুনকে গাজীপুর সিটির নির্বাচনে বিজয়ী করা সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন তারা মা-ছেলে জন্মগতভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থক। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার মা জন্মগতভাবে আওয়ামী লীগ। কেউ মানুক আর না মানুক, সেটা তাদের ব্যাপার।’ মা জায়েদা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জন্মগতভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থক। আমরা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে এসেছি, নেত্রীর বাড়িতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা সহযোগিতা চাই। আমরা জন্ম থেকে আওয়ামী লীগ করেছি। আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবেই আছি। অন্যরা কে কী বলল, তাতে আমাদের কিছুই আসে যায় না।’

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমার বিষয় নয়। এটি দলীর বিষয়। তাই দল যেটা ভালো বুঝবে সেটাই করবে।’

এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন জায়েদা খাতুনসহ উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জায়েদা খাতুন বলেন, ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নগরীর সর্বাত্মক উন্নয়নে কাজ করতে চাই। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে আমি সবার সহযোগিতা চাই। সবার কাছে সহযোগিতা নেব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সবার সহযোগিতা নিয়ে গাজীপুরের উন্নয়নে মিলেমিশে কাজ করব। উন্নয়নের কাজে আমার ছেলে জাহাঙ্গীরও সঙ্গে থাকবে।’ এ সময় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।