সোশ্যালে ধর্ম অবমাননা, কঠোর হচ্ছে শ্রীলঙ্কা

ধর্মীয় বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ধর্ম অবমাননা রোধে নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। এরইমধ্যে এ আইনের খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার এক কৌতুক অভিনেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম সম্পর্কে বেশ কিছু অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। এরপরই দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন আইন করার এ পদক্ষেপ নেয়।

সোমবার (২৯ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই নারী কৌতুক অভিনেতার নাম নাথাশা এডিরিসুরিয়া। পরে অবশ্য এ ঘটনার জন্য ক্ষমাও চান তিনি । কিন্তু তার আগেই এডিরিসুরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। রবিবার এ কৌতুক অভিনেতা দেশ ত্যাগের চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় ।

এদিকে শ্রীলঙ্কার বুদ্ধশাসন, ধর্মীয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বিদুরা বিক্রমানায়াকা এদিন বলেছেন, দেশে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অপবাদের ঘটনা রোধে শিগগিরই একটি আইন পাস করা হবে। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এ আইন সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার সব ধরনের ঘটনা বন্ধ করবে।’

ধর্ম অবমাননা করার ঘটনা শ্রীলঙ্কায় এটাই প্রথম নয়। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির স্বঘোষিত ধর্মযাজক জেরোম ফার্নান্দোর বিরুদ্ধে ভগবান বুদ্ধকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। যা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এরপর ১৫ মে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগকে বিষয়টি অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট রণিল বিক্রমাসিংহে। এ ধরনের বিবৃতি দেশে ধর্মীয় সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে দাবি করেন তিনি

এছাড়াও গত জানুয়ারিতে সেপাল অমরাসিংহ নামে দেশটির এক জনপ্রিয় ইউটিউবার ভগবান বুদ্ধের পবিত্র দাঁতের স্মারক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এ অভিযোগে পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কায় ৭৪ শতাংশেরও বেশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর বাস। দেশটির রাষ্ট্রীয় ধর্ম বৌদ্ধধর্ম। তবে সেখানে অন্য সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অধিকারকে সম্মান করা হয়।