সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপি

আহ্বায়কের স্বেচ্ছাচারিতায় ২৯ নেতার পদত্যাগের হুমকি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ মো. আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কর্মকা- ও রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়া ও পছন্দের লোক দ্বারা কমিটি গঠনসহ নানা অভিযোগে আহ্বায়ক কমিটির ২৯ জন সদস্য পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ হুমকি দেন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা সভাপতি আবদুল কুদ্দুস ধীরণ নেতাদের পক্ষে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় শেখ আবদুল্লাহর স্বেচ্ছাচারিতার তদন্ত চেয়ে কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

আবদুল কুদ্দুস ধীরণ অভিযোগ করেন, এই সরকারের সময় যখন উপজেলার নেতারা মামলা-হামলায় জর্জরিত, সেখানে আবদুল্লাহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সিআইপি পদক নেন। আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে এখন পর্যন্ত উপজেলার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোনো সভায় উপস্থিত হননি। এমনকি কোনো মিছিল-মিটিংও নেতৃত্ব দিয়ে সফল করেননি।

তিনি বলেন, কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে শুধুমাত্র ফেসবুকের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ১৪টি ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আবার পরবর্তী সময়ে সাত মাস পর পছন্দের লোক দিয়ে কোনো সম্মেলন ছাড়াই পুনরায় ফেসবুকের মাধ্যমে ১৪ ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। গত ১৫ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে, মামলা-হামলার স্বীকার নেতাকর্মীদের বাদ দিয়েই পছন্দের লোকদের বসিয়েছেন পদে। ফলে ত্যাগী নেতারা কর্মসূচিতে না থাকায় উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘মিটিং করার সময় তাদের অনেকবার ডাকা হয়েছে। তারা আসে নাই। অনেক ইউনিয়নের সম্মেলন হয়েছে, কিছু ইউনিয়নে করা যায়নি। পুলিশ ঝামেলা করেছে। চেষ্টা করি সম্মেলন করে কমিটি দেওয়ার। যারা আজ সম্মেলন করল তারা গোপন আঁতাত করেই রাজনীতি করে। কেউ মামলা খায় নাই। আমরা দেশে থাকলে মামলা খাই।’

এ বিষয়ে ধীরণ কুদ্দুস বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের আগেও বনানী থেকে ৫৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। অনেকে এখনো মুক্তি পায়নি। এই সরকারের আমলে মামলা-হামলা তার চেয়ে আমরা বেশি খেয়েছি।’