দিনটি কলিনদ্রেস না দিয়াবাতের

স্বাধীনতা কাপ ও লিগ শিরোপা স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার পর সর্বোচ্চ ১৩ বারের ফেডারেশন কাপজয়ী আবাহনীর আকাশসম নির্ভরতা দানিয়েল কলিনদ্রেসে। আর মোহামেডান ১৪ বছরের আক্ষেপ ঘোচাতে তাকিয়ে ‘ঘরের ছেলে’ সুলেমান দিয়াবাতের দিকে।

ম্যাচটা শুরু হবে বেলা সোয়া ৩টায়। তীব্র গরমে গমগমে একটা ম্যাচের ইঙ্গিত মিলেছে আগের দিনই। ৩টায় ম্যাচ ভেন্যুতে অনুশীলন শুরু করেছে মোহামেডান। এক ঘণ্টা পর আবাহনী শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিয়েছে। দুই দলের এত এত ফুটবলারের মধ্যে অবশ্য নজরটা ছিল ওই কলিনদ্রেস ও দিয়াবাতের দিকেই। আকাশিদের ভিনদেশিদের মধ্যে মৌসুমজুড়েই নজরকাড়া পারফরম্যান্স কোস্টারিকার হয়ে ২০১৮ সালে বিশ^কাপ খেলা কলিনদ্রেসের। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তার পায়ে ফোটে ফুটবলের ফুল। লিগে ১৭ ম্যাচে করেছেন ১১ গোল। করিয়েছেন তার চেয়ে বেশি। এক গোল করে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনাল জয়ে রেখেছেন মুখ্য ভূমিকা। তার কারণেই আবাহনীর আক্রমণভাগের বাঁ দিকটা বড্ড ভয়ংকর।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে অবশ্য কলিনদ্রেসকে খানিকটা ছাড়িয়ে গেছেন মোহামেডানের গোলমেশিন দিয়াবাতে। মালির এই স্ট্রাইকার সাদা-কালো জার্সিতে পঞ্চম মৌসুমে ভয়ংকর মূর্তি ধারণ করেছেন। লিগে ১২ গোলের পাশাপাশি ফেডারেশন কাপে করেছেন ৪ গোল। অনামী-অখ্যাতদের নিয়ে গড়া দলটিকে লিগের দ্বিতীয় ভাগে বদলে ফেলার বড় কৃতিত্ব দিয়াবাতের। একের পর এক ম্যাচে গোলের কাজটা সারছেন নিখুঁতভাবে। আবার দলের নেতৃত্বও দিচ্ছেন দারুণ দৃঢ়তায়। কোচ আলফাজ আহমেদের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় দিয়াবাতে মোহামেডানকে দেখাচ্ছেন দীর্ঘদিন পর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন।

ফেডারেশন কাপ শিরোপা হাতছাড়া হয়ে গেলে মৌসুমটা শেষ হবে শূন্য হাতে। এই শূন্যতার ভাড়টা বইতে চাইছেন না দুই দলের দুই নায়ক; বিশেষ করে আবাহনীর জন্য সেটা হবে অনেক বড় লজ্জার। কলিনদ্রেস চাইছেন আবাহনীর হয়ে তার সম্ভাব্য শেষ টুর্নামেন্টটা স্মরণীয় করে রাখতে, ‘এই মৌসুমে আমরা কোনো শিরোপা জিততে পারিনি। তাই এই ম্যাচটা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। একটা শিরোপা জয় সব সময়ই বিশেষ কিছু।’ চার দিন আগে মোহামেডানের সঙ্গে লিগের ম্যাচে ১-১ ড্র করতে হয় আবাহনীকে। এই মাঠেই সেই ম্যাচটা দেখে কলিনদ্রেসের মনে হয়েছে মোহামেডানের খেলায় আমূল পরিবর্তন এসেছে, ‘মোহামেডান অনেক কঠিন একটা প্রতিপক্ষ। তারা খুবই আক্রমণাত্মক। প্রতিপক্ষকে খেলার খুব বেশি সুযোগ দেয় না। তবে শিরোপাটা জিততে আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের সামর্থ্যরে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

সুলেমান দিয়াবাতের প্রতিটা কথাই শেষ হয়েছে নিজের দল মোহামেডানের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে। প্রথম খেলতে আসার বছর থেকেই মোহামেডানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসা দিয়াবাতে বলেন, ‘আমি পুরো মৌসুমটাই খুব উপভোগ করেছি। ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠেছি। নিজের পুরোটা দিয়ে চেষ্টা করব মোহামেডানকে একটা শিরোপা এনে দিতে। আমি অনেক দিন ধরে মোহামেডানে খেলছি। এ রকম সুযোগ প্রথম পেয়েছি। ভালো ফুটবল উপহার দিয়ে চেষ্টা করব, ক্লাবকে ও হাজারো সমর্থককে আনন্দ দিতে।’

অফিস-স্কুল-কলেজ খোলা দিনে ফাইনাল। তারপরও কলিনদ্রেস-দিয়াবাতেদের চমকপ্রদ ফুটবলে বুঁদ হতে ভরে যাবে কুমিল্লা স্টেডিয়ামের গ্যালারি, এই প্রত্যাশা স্থানীয় সংগঠকদের। দেশের অনগ্রসর ফুটবলের খবর যারা নিয়মিত রাখেন, তারাও এই ম্যাচটাকে একটা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দাবি করছেন। এর মধ্য দিয়েই ফুটবলে ফিরবে সোনালি অতীত। আর সেটা ফেরাতে আরেকবার আগ্রাসী রূপ নিতে হবে কলিনদ্রেস ও দিয়াবাতেকে।