ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মহাসাধক শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৩তম তিরোধান উৎসব।
এ উপলক্ষে মেলা আয়োজনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে জুয়ার আসর ও মেলা বসানোর অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। এ জন্য দোকান প্রতি আদায় করা হয়েছে ৫-৭হাজার টাকা ।
অপর দিকে বারদী প্লাজায় আব্দুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে আবদুল লতিফ,জয়নাল, কিরণসহ ১০/১৫জনের একটি সিন্ডিকেট দোকান প্রতি আদায় করা হয়েছে ১০ থেকে ২০হাজার টাকা।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমে প্রতি বছর তিরোধান উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত আসেন। ঐ মেলা আয়োজন নিয়ে প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে বারদী এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই কারণে এবারও মেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
স্থানিয় সূত্র জানায়, ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাই মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২জনের একটি সিন্ডিকেট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ এক নেতার ছত্রছায়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেলা আয়োজনে করছে।
অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্ধ্যায় ডেকে আমাকে মেলার আয়োজন করতে বলেছেন। অনুমোদন নিতে হবে না বলে জানিয়েছেন। অনেক দোকানদার মেলায় এসে দোকান বসতে না দেওয়ায় হতাশ হয়েছেন। এ কারণে তিনি মেলার আয়োজন করতে বলেছেন। তবে মেলার দোকান থেকে কোন টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম সামসু বলেন, মেলার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, প্রতি বছর লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তীরোধান উৎসবে তিনদিন ব্যাপী মেলা বসে। এ বছর মেলার কোন অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। ফলে মেলার আসা দোকান মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজওয়ান উল ইসলাম বলেন, মেলার কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। খোঁজ নিয়ে আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।