রসায়নশাস্ত্রে নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী হাইনরিশ ওটো ওয়াইনল্যান্ড ১৮৭৭ সালের ৪ জুন জার্মানির বাডেন-বুটেনব্যার্গ প্রদেশের প্রাচীন শহর ফোর্জহাইমে জন্মগ্রহণ করেন। এ শহরটি গহনা ও ঘড়ি বানানোর জন্য বিখ্যাত ছিল। হাইনরিশের বাবা থিওডোর ওয়াইনল্যান্ড ছিলেন রসায়নে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী একজন ফার্মাসিস্ট এবং ফোর্জহাইমে শহরে একটি স্বর্ণ-রৌপ্য পরিশোধনাগারের মালিক। হাইনরিশের মায়ের নাম এলিসে ব্লুম ওয়াইনল্যান্ড। হাইনরিশের লেখাপড়া শুরু হয়েছিল স্টুটগার্ট শহরের একটি কারিগরি বিদ্যালয়ে। পরে তিনি মিউনিখ, বার্লিন ও স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। মিউনিখের বিখ্যাত বায়ের ল্যাবরেটরিতে জোনাথন থিয়েলের অধীনে তিনি গবেষণা করেন এবং ১৯০১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। জৈব রসায়ন শাস্ত্রের জনক হিসেবে অভিহিত হাইনরিশ ওটো ওয়াইনল্যান্ড ১৯২৭ সালে রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। রসায়ন শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে হাইনরিশের আদ্যোপান্ত পা-িত্য আজকের দিনের রসায়নবিদদেরও অভিভূত করে। বিজ্ঞানী হাইনরিশের মৌলিক আবিষ্কারের সংখ্যা অনেক এবং বিচিত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা হলো ‘বাইল অ্যাসিড’-এর গঠন নিয়ে বিশদ গবেষণা। এই অবদানের জন্যই তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ‘বাইল অ্যাসিড’ নিয়ে তার গবেষণা ‘মেটাবোলিজম’ প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করতে এবং অনেক ধরনের ওষুধ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি আবিষ্কারেও হাইনরিশের এই বাইল অ্যাসিড গবেষণা ভূমিকা রেখেছে। হাইনরিশ ওটো ওয়াইনল্যান্ড ব্যক্তিজীবনে নিভৃতচারী ছিলেন এবং কখনোই খ্যাতির পেছনে ছোটেননি। তিনি যেমন অসাধারণ একজন বিজ্ঞানী ছিলেন তেমনি অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাইনরিশ তার ইহুদি ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে কাজ করেছিলেন। ১৯৫৭ সালের ৫ আগস্ট জার্মানির স্টার্নব্যার্গে ক্ষণজন্মা বিজ্ঞানী হাইনরিশ ওটো ওয়াইনল্যান্ড মৃত্যুবরণ করেন।