প্রতিবেশী পরাক্রমশালী রাশিয়ার কাছ থেকে পশ্চিমা ঘেঁষা ইউক্রেন স্থায়ী নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় বারবার মিত্রদের দরজায় কড়া নাড়ছে। ইউক্রেনের এই ভীতিটা আরও জেঁকে বসেছিল ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদ চেয়ে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে জোটের প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। অতি সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ মলদোভায় অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। সেখানেও তিনি ন্যাটো জোটে ইউক্রেনের যোগদানের বিষয়ে চাপ দেন।
জেলেনস্কির এমন চাপে আপাতত ইউক্রেনকে ন্যাটোর আনুষ্ঠানিক সদস্য করেও দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক জোটের সুনির্দিষ্ট ভূমিকার আশ্বাস দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে এমন নিরাপত্তাকে যথেষ্ট মনে করছেন না জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ন্যাটোর ‘অতিরিক্ত’ সদস্য হয়ে থাকতে চাই না। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের পর বৈঠক করে যাচ্ছি।’’ অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের গত বছর শুরু হওয়া যুদ্ধটা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বাখমুত যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে জেলেনস্কির বাহিনী। এখন রুশ ড্রোন-মিসাইলের লক্ষ্যবস্তু ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। এ পরিস্থিতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের কথা বলে আসছে ইউক্রেন। দেশটি এ জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানালেও এখনো সেভাবে বড় ধরনের কোনো পাল্টা আক্রমণ শুরু করতে পারেনি। ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ এখনো অস্পষ্ট। এ অবস্থায় ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। খোদ জেলেনস্কি এই বাস্তবতা স্বীকার করেন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, গত শুক্রবার এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, “যুদ্ধরত অবস্থায় ইউক্রেনের পক্ষে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর সদস্য হওয়া ‘অসম্ভব’ এবং বিষয়টি তিনি বোঝেন।” এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট আলার কারিসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্যই ন্যাটোর সদস্যপদ প্রয়োজন তাদের। কারণ এ জোট সদস্য দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সদস্যপদ পেতে এখন যে চ্যালেঞ্জ, সেই বাস্তবতা স্বীকার করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা কোনো ন্যাটো দেশকে যুদ্ধে টেনে আনব না। এ কারণেই আমরা বুঝি যে যুদ্ধচলাকালীন অবস্থায় ন্যাটোতে যোগ দেওয়া সম্ভব না। এমন নয় যে আমরা চাই না, তবে এখন এটি অসম্ভব।’ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণকে রাশিয়ার প্রতি পশ্চিমা শত্রুতাপূর্ণ আচরণের প্রমাণ হিসেবে দেখে আসছে ক্রেমলিন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণের একটি কারণ হিসেবে এটিকে উল্লেখ করে আসছে মস্কো। এই আক্রমণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বৃহত্তম সংঘাতে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের ন্যাটোতে ঢোকার তোড়জোড়ে রাশিয়া নতুন করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইউক্রেন যদি ন্যাটো জোটের সদস্য হয় তাহলে বিষয়টি আগামী কয়েক বছর সমস্যা তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন। শুক্রবার ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ অবশ্যই উত্তেজনা সৃষ্টির একটি কারণ এবং সম্ভবত আগামী বেশ কিছু বছরের সমস্যা তৈরি করবে। অনেক ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশ এই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ওয়াশিংটনের নির্দেশে ন্যাটোর সবকিছু নির্ধারিত হয়। এই পুরো বিষয়ে ইইউ অনুগত হাতিয়ার মাত্র।’