নাটোরের বাগাতিপাড়ায় শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরার জন্য ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে কেনা হয়েছিল ডিজিটাল হাজিরা মেশিন। কিন্তু চার বছর পার হয়ে গেলেও মেশিনগুলোতে এখনো দেওয়া হয়নি ডাটাবেজ বা সফটওয়্যার সংযোগ। ফলে দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় ইতিমধ্যে অনেক মেশিন বিকল হয়ে পড়েছে।
শিক্ষক নেতা ও চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, তিন বছর ওয়ারেন্টিতে হাজিরা মেশিনগুলো কেনা হয়েছিল। যার মেয়াদ এক বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় ছুটি থাকায় মেশিনগুলো চালু করা যায়নি। আর যার কাছ থেকে মেশিনগুলো কেনা হয়েছিল তারও কোনো হদিস নেই। এখন সেগুলোতে সফটওয়্যার বা ডাটাবেজ সংযোগ দিতে গেলে নতুনভাবে অর্থের প্রয়োজন।
অপরদিকে, উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের দাবি, শিক্ষা দপ্তরের উচ্চ মহলের নির্দেশনায় উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বসানো হয়েছে। আবার উচ্চ মহলের নির্দেশনা না থাকায় ডিজিটাল হাজিরা মেশিনগুলোতে ডাটাবেজ বা সফটওয়্যার সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় পর্যবেক্ষণ করার জন্য শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশনায় উপজেলার ৫৬টি বিদ্যালয়ে একযোগে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বসানো হয়। বিদ্যালয়গুলোকে দুজন শিক্ষক প্রতিনিধির মাধ্যমে এসব মেশিন কিনতে হয়েছিল। তখন দামের তুলনায় মানহীন মেশিন কেনার অভিযোগও উঠেছিল। ভ্যাটসহ প্রতিটি মেশিনের দাম পড়ে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। এতে ৫৬টি বিদ্যালয়ে মোট খরচ হয় ৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ওই অর্থ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের (স্লিপ ফান্ডের) টাকার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। যার গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। বিদ্যালয়গুলোতে মেশিনগুলো একদিনও ব্যবহার করা হয়নি। শিক্ষকরা মাঝে মধ্যে মেশিনগুলো ভালো রাখার জন্য বিদ্যুতের চার্জ দেন। অকেজো পড়ে থাকায় বর্তমানে অনেক বিদ্যালয়ের মেশিন বিকল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নতুন যোগদান করেছি। এর আগে ছিলাম সাইলকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দুটি বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে একদিনের জন্যও ডাটাবেজ বা সফটওয়্যার সংযোগ দেওয়া হয়নি। এখনো ওই দুই বিদ্যালয়ে স্থাপন করা মেশিনগুলো অকেজো অবস্থায় রয়েছে।
লোকমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, তার বিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটি একদিনও ব্যবহার হয়নি। নষ্ট হয়েছে কি না তিনি জানেন না। তবে আগে বিদ্যুতের সংযোগ দিলে আলো জ¦লত। কিছুদিন থেকে আর আলো জ্বলছে না।
বাগাতিপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম বলেন, অনলাইন হাজিরার বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের কোনো নির্দেশনা না থাকায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।