জামালপুর পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে পানি উঠছে না। অন্যদিকে পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি ময়লাযুক্ত ও দুর্গন্ধময় হওয়ায় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না বলে অভিযোগ পৌরবাসীর।
জামালপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ শাখার সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের শতকরা ৩৫ ভাগ নলকূপে পানি ওঠে না। পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ করছে পৌরসভা।
জামালপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পৌরবাসীর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে শহরের বগাবাঈদ এলাকায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, শহরের শতকরা ৮০ ভাগ নলকূপে পানি নেই। পৌরসভা থেকে তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি সরবরাহ করে থাকে। এই পানি ময়লাযুক্ত ও দুর্গন্ধময়। এ পানি দিয়ে সংসারের কোনো কাজ করা যায় না।
শহরের পাথালিয়া, কাচারীপাড়া, বোষপাড়া, ফুলবাড়িয়া, ইকবালপুর, মুসলিমাবাদ, মুকন্দবাড়ি, মৃধাপাড়া, বজ্রাপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে পানির জন্য মানুষের ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়ে। শহরের বেশির ভাগ খাল, বিল, পুকুর, জলাশয়, নদী-নালা ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- চলছে। এতে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে কিছু পানি পাওয়া গেলেও সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি উঠছে না। পানির তীব্র সংকটে অনেক বাসাবাড়ির মানুষ বোতলজাত খাবার পানি কিনে খাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করতে দূরদূরান্তে ছুটছে। এই মৌসুমে পানির চাহিদা বেশি হওয়ায় অনেকেই মসজিদসহ অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি সংগ্রহ করছেন।
জামালপুর পৌর শহরের চালাপাড়া এলাকার রোকিয়া বেগম বলেন, ‘কলে পানি ওঠে না। পৌরসভার লাইন দিয়ে যে পানি আসে তাতে ময়লা থাকে। এই পানি খাওয়া যায় না। এখন তো পানি নেই, তাই এই ময়লা পানি দিয়েই কোনো রকমে সংসারের কাজ করতে হচ্ছে।’
বসাকপাড়া এলাকার সনিয়া বলেন, ‘আমাদের তো সাবমারসিবল পাম্প নেই। আগের একটা সাধারণ পাম্প ছিল, ওটা দিয়ে এখন পানি ওঠে না। তাই পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানি নিতে আসছি। এ পানি দুর্গন্ধযুক্ত।’
জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানু জানান, শহরের বগাবাঈদ এলাকায় একটি ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। শোধনাগারের পানি ওই এলাকায় সরবরাহ করে অতিরিক্ত পানি দেওয়ানপাড়া, আমলাপাড়াসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় দিতে গেলে পানির চাপে সরবরাহের পাইপলাইন ফেটে যায়। এ পাইপলাইন সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ করে পানি সরবরাহ করা হবে। ওই শোধনাগারের পানি সরবরাহ হলে পৌরবাসীর পানির সংকট নিরসন হবে। পৌরসভার সরবরাহ করা পানি ময়লাযুক্ত ও দুর্গন্ধময় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
জামালপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, সারা দেশের ৩৭টি জেলায় পানি সরবরাহের আওতায় একটি করে ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এ পৌরসভার বগাবাঈদ এলাকায় সেই ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে। এখন ট্রায়াল করা হচ্ছে। এটা চালু হলে পৌরবাসীর পানির চাহিদা পূরণ হবে।