ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি তহিদুল ইসলামের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করায় এক ভুক্তভোগীকে সাংবাদিকদের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে পুলিশ আবদুর রহমান আরজু নামে ওই ভুক্তভোগীকে রেখে চলে যেতে বাধ্য হয়।

গতকাল বুধবার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এ কা- ঘটান চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি তহিদুল ইসলাম এবং ওসি (তদন্ত) মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ওই থানার একদল পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান আরজু অভিযোগ করেন, চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে তহিদুল ইসলাম যোগদান করার পর থেকে তিনি টাকার বিনিময়ে ‘মিথ্যা’ মামলা এন্ট্রিসহ নানাভাবে নিরীহ মানুষজনকে হয়রানি করে আসছেন। বুধবার দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে তিনি ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলন চলাকালে অভিযুক্ত ওসি তহিদুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মফিজুর রহমান, থানার এসআই বিকাশ চন্দ্র ভৌমিকসহ একদল পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে এসে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চন্দ্রগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের সঙ্গেও পুলিশ খারাপ আচরণ করে বলে ঐ এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান।

আবদুর রহমান আরজু আরও জানান, ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে গত ২৮ মে দেলোয়ার হোসেন নাদিম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসিকে ম্যানেজ করে তার (আরজু) বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা করেন। মামলা করার পরপরই পুলিশ আরজুকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। এক সপ্তাহ পর তিনি জামিনে আসেন। একইভাবে টাকার বিনিময়ে ‘মিথ্যা’ মামলা নিয়ে ওই ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্নজনকে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন তিনি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি তহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আবদুর রহমান আরজুর বিরুদ্ধে দেলোয়ার হোসেন নাদিম মামলা করেছেন, ঘটনা সত্য নাকি মিথ্যা তা তদন্ত কর্মকর্তা রিপোর্ট দেবেন।

তিনি সাংবাদিকদের আরও জানান, তার (ওসির) বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তিনি আসেন, বাধা দিতে নয়। এছাড়াও, তার (ওসির) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়।