দেশে বছরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হচ্ছেন ও অস্ত্রোপচার হচ্ছে তিন হাজার। উন্নত বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি লাখে ১৫ জন। তবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এ সংখ্যা প্রতি লাখে চারজন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান। ‘বাংলাদেশে ব্রেন টিউমার সার্জারি : সাফল্যের ৫২ বৎসর’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনস।
অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, নিউরো বাংলাদেশের নিউরোসার্জনরা বিশ্বমানের। তারা বাংলাদেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে সেবা দিতে সক্ষম। আগামীতে নিউরোসার্জারি বিভাগে অত্যাধুনিক গামা নাইফ সার্জারি চালু করতে চাই।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনসের সভাপতি এবং বিএসএমএমইউর নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন ধরনের রেডিয়েশনসহ বিভিন্ন কারণে ব্রেন টিউমার হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে দেশে প্রথম বিএসএমএমইউ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিউরো সার্জারির এমএস কোর্স চালু হয়। এখন ২০টি সরকারি হাসপাতালে নিউরোসার্জারি বা ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার হচ্ছে। নিউরোসার্জিক্যাল সেন্টারগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি দেওয়া গেলে ও দেশের সব জেলা হাসপাতালে নিউরোসার্জারি চালু করলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ব্রেন টিউমার, হেড ইনজুরি প্রভৃতি বিষয়ে চিকিৎসার সুযোগ পাবে। সময়মতো অপারেশন করলে ব্রেন টিউমার ভালো হয় এবং মৃত্যুঝুঁকি ও পঙ্গুত্ব কমে যায়।
দেশের তরুণ প্রজন্মের নিউরোসার্জনরাই সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন বলে সেমিনারে আশা প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। তারা বলেন, তরুণ নিউরোসার্জনরা অনেক দক্ষ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা দিতে পারদর্শী। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্রেন টিউমার অপারেশনে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনসের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম। সেমিনারে বিএসএমএমইউর সহযোগী অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জন ডা. ইসমে আজম জিকো, জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিউরোসার্জন ডা. জিয়াউদ্দিন ব্রেন টিউমারের ওপর পৃথক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।