জকোভিচের তেইশের সামনে বাধা রুড

নতুন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে নোভাক জকোভিচ। আজ ক্যাসপার রুডের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনাল খেলবেন তিনি। জিতলেই আবার এককভাবে সর্বাধিক ২৩ শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি। ছাড়িয়ে যাবেন চোটের কারণে এই খেলতে না পারা রাফায়েল নাদালকে।

গেলবার এই ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেই ২২তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েছিলৈন স্প্যানিয়ার্ড। তখন নাদালের চেয়ে দুই শিরোপা পিছিয়ে ছিলেন জকো। এরপর উইম্বলডন এবং এই বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে নাদালকে ছুঁয়েছেন জকোভিচ। আজ ২৩তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতলে ছোঁবেন সেরেনা উইলিয়ামসকে। টেনিস ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম আছে মার্গারেট কোর্টের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

তবে এসব নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না জকোভিচ। তিনি মনে করেন ইতিহাস সবসময়ই তার ওপর ঘোরাফেরা করে, ‘আমি আশা করছি রবিবার সেরা টেনিসটাই খেলব। আমি এখন শুধু এটুকু বলতে পারি যে, লক্ষ্যে স্থির আছি। ইতিহাস সবসময়ই আমার ওপর ঘোরাঘুরি করে। নতুন ইতিহাস লিখতে পারব টেনিসে, এমন জায়গায় থাকতে পেরে আমি খুশি। তবে আমি শুধু পরবর্তী ম্যাচটাতে জয় নিয়ে ভাবছি।’

জকোভিচের পথের বাধা রুড টানা দ্বিতীয়বার খেলছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে। গতবার নাদালের সামনে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। সরাসরি সেটে হেরেছিলেন। এবারের প্রতিপক্ষ জকোভিচের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে কোনো জয় নেই তার। তবে ফাইনালের চাপ সামলে জিততে পারলে তার প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতা হবে।

সেমিফাইনালে শনিবার রাতে তৃতীয় বাছাই জকোভিচ ৬-৩, ৭-৫, ৬-১, ৬-১ গেমে হারিয়েছেন শীর্ষ বাছাই কার্লোস আলকারাজকে। তৃতীয় সেট যখন ১-১, ডান পায়ের ক্র্যাম্পে পড়েন স্প্যানিশ খেলোয়াড় আলকারাজ। ফিরে এসে খেললেও স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না তার খেলায়। ৩৪ ও ৩২ মিনিটে পরের দুই সেট জিতে এক বছর পর আবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠে যান জকোভিচ।

ম্যাচ জয়ের পর চাপে থাকা নিয়ে জকো বলেন, ‘সব সময়ই আমার ওপর চাপ থাকে। তাই এটি ভিন্ন কিছু হবে না। চাপ আমার জীবন ও খেলারই অংশ। আমার মতে চাপ থাকাটা আমার জন্য ভালো।’ এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনাল খেলছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। রোলা গারোতে শিরোপা জিতেছেন দুবার (২০১৬ ও ২০২১)।

রুডের বিরুদ্ধে এর আগে চারবার খেলেছেন জকোভিচ। জিতেছেন সব ম্যাচই। সবশেষ ২০২২ এটিপি ফাইনালে জকোভিচ ৭-৫, ৬-৩ এ জিতেছিলেন। তাই আজ ফেভারিট হিসেবেই কোর্টে নামবেন ৩৬ বছরের জকোভিচ।

২৪ বছরের রুড এর আগে মাত্র দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলেছেন। গেলবার ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেন। এবার চতুর্থ বাছাই রুড সেমিফাইনালে শনিবার রাতে ৬-৩, ৬-৪, ৬-০ গেমে হারান ২২তম বাছাই আলেকজান্দার ভেরেভকে। তার আগে কোয়ার্টারে তিনি হারিয়েছিলেন ষষ্ঠ বাছাই হলগার রুনকে।

চাপমুক্ত থেকে ফাইনালে খেলতে চান নওরোজিয়ান এই টেনিস তারকা। ‘আশা করছি তৃতীয়বার (গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল) আমার জন্য শুভ হবে। জানি লড়াইটা কঠিন হবে। তিনি ২৩তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের জন্য খেলবেন, আমি প্রথমের জন্য।’ বলছিলেন রুড। সব মিলিয়ে এটি জকোর ৩৪তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল, ফ্রেঞ্চ ওপেনে সপ্তম। তাই অভিজ্ঞতায় রুডের চেয়ে অনেক এগিয়ে তিনি।