চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা শিখল ম্যানসিটি

শেষ ছয় মৌসুমের পাঁচ বারই লিগ শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। জিতেছে ঘরোয়া টুর্নামেন্টও। শুধু ইউরোপ সেরার মুকুটটাই পরা হচ্ছিল না। অবশেষে সেটিও হলো। শনিবার ইস্তানবুলের আতাতুর্ক স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটি ১-০ গোলে হারায় ইন্তার মিলানকে। তাতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের সঙ্গে পূরণ হয়েছে ট্রেবলও।

দশম ইউরোপিয়ান ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জিতল ম্যানসিটি। ইংলিশ ক্লাব হিসেবে দ্বিতীয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ট্রেবল জিতেছিল ১৯৯৯-তে স্যার আলেক্স ফার্গুসনের কোচিংয়ে। ম্যানচেস্টারেরই আরেক দল এবার গড়ল ট্রেবলের কীর্তি।

ম্যানচেস্টার সিটি একতরফা খেলে উড়িয়ে দেবে ইন্তার মিলানকে। এমন পূর্বাভাস করেছিলেন অনেকে। ফাইনালে প্রথমার্ধে ম্যাচ ছিল কিছুটা ম্যাড়ম্যাড়ে। ম্যাচের ৩০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ট্যাকলে পায়ে আঘাত পান ডি ব্রুইনে। মাঠেই চিকিৎসা নিয়ে খেলা শুরু করেন। আট মিনিট পর বাধ্য হয়ে উঠে যান তিনি, বদলি নামেন ফিল ফোডেন।

দলের সেরা তারকার প্রথমার্ধে ছিটকে পড়া সিটির জন্য বড় ধাক্কা। ২০২১ সালের ফাইনালেও চোট পেয়ে পুরোটা সময় খেলতে পারেননি এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডার। তবে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টি ঠিকই করেছে সিটি। তাই তো ডি ব্রুইনের বদলি নামা ফোডেনকে দেখে মনে হয়েছে তিনিও ছিলেন তৈরি।

৫৮ মিনিটে ডিফেন্ডার মানুয়েল আকানজির অপ্রয়োজনীয় ব্যাকপাস ধরে সবাইকে পেছনে ফেলে লাউতারো মার্তিনেজ ঢুকে পড়েন ডি-বক্সে, তাকে বাধা দিতে পোস্ট ছেড়ে যান গোলরক্ষক এদেরসন। ততক্ষণে বক্সে ঢুকে পড়েছেন খানিক আগেই বদলি নামা রোমেলু লুকাকু। তবে তাকে পাস না দিয়ে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন মার্তিনেজ। যা এদেরসনে প্রতিহত হয়।

৬৮ মিনিটে আকানজির পাস পেয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে শট নেন বার্নার্দো সিলভা। গোললাইনের কাছে তার কাটব্যাক ইন্তারের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে পেনাল্টি স্পটের কাছে ফাঁকায় চলে গেলে ছুটে গিয়ে বিনা বাধায় জোরালো শটে বল জালে পাঠালেন রদ্রি।

গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইন্তার। দুই মিনিট পরই সমতায় ফিরতে পারত ইতালির দলটি। তবে ফেদেরিকো দিমার্কোর হেড বাধা পায় ক্রসবারে। তারপরও সুযোগ ছিল; ফিরতি বলে আবারও হেড করেন দিমার্কো, এবার বল সামনেই দাঁড়ানো লুকাকুর পায়ে লেগে প্রতিহত হয়।

৮৮ মিনিটে সিটির ত্রাতা ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার এদেরসন। বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে সতীর্থের হেড একেবারে গোলমুখে পেয়ে যান লুকাকু, হেড করেন তিনি। বল পা দিয়ে ঠেকান এদেরসন। পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের একেবারে শেষেও গোল শোধের সুযোগ আসে ইন্তারের। রবিন গোজেন্সের হেড ঠেকিয়ে জাল অক্ষত রাখেন এদেরসন। তাতে নিশ্চিত হয়ে যায় সিটির শিরোপা জয়।

২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের সময়ও সিটিতেই ছিলেন রদ্রি। তবে সেদিন তাকে মাঠেই নামাননি গার্দিওলা। আর এবার তিনিই নায়ক স্বপ্নপূরণ হওয়ার কথা। ‘স্বপ্ন সত্যি হলো। আমার চারপাশে যারা আছে, জানি না কত বছর ধরে তারা সবাই অপেক্ষায় ছিল! তাদের এই সাফল্য প্রাপ্য, আমাদের প্রাপ্য।’

২০২১-২২ মৌসুমে সেমিফাইনালে প্রথম লেগে এগিয়ে গিয়েও রিয়ালের কাছে হেরেছিল ম্যানসিটি। এবারও সেমিতে তারাই ছিল প্রতিপক্ষ। প্রথম লেগ প্রতিপক্ষের মাঠে ড্র করে এসে দ্বিতীয় লেগ বড় ব্যবধানে জেতে সিটি। ২০২১ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে সিটির ফরোয়ার্ড লাইনে আক্ষরিক অর্থে কোনো স্কোরার ছিল না। এবার মৌসুমের শুরুতেই জাত স্ট্রাইকার দলে টানেন গার্দিওলা। হালান্ড ফাইনালে গোল না পেলেও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই। নিজের প্রথম মৌসুমে হালান্ড ৫৩ ম্যাচে ৫২ গোলে শেষ করলেন। তাই বলাই যায় অবশেষে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা শিখল ম্যানচেস্টার সিটি।

ম্যাচ শেষে পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘খুব ক্লান্ত লাগছে। তবে তৃপ্ত। এই চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এত কষ্টকর! ইন্তার সত্যিই ভালো দল। আজ আমরা সেরা চেহারায় ছিলাম না। ভাগ্যকেও পাশে পাওয়া জরুরি ছিল। শেষে এদেরসনের সেভ, লাকি ছিলাম আমরা। এটা আমাদেরই প্রাপ্য ছিল।’

মৌসুমে সিটির সর্বোচ্চ গোলদাতা হালান্ড কল্পনা করেননি এমনটি হবে। ‘অবিশ্বাস্য। আমি স্বপ্নেও এমন কিছু কখনো কল্পনা করিনি। গার্দিওলার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তার অধীনে খেলা, বিশ্বের সেরা কোচের অধীনে ট্রেনিং করা, এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই আমার।’

দীর্ঘ এক মৌসুম শেষেরটা দারুণভাবে শেষ করায় উৎসবের নগরী এখন ম্যানচেস্টার।