তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় রাজস্বের চেয়ে বেশি

তামাক খাত থেকে আসা রাজস্ব আয়ের চেয়ে তামাকজনিত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর তামাকের কারণে দেড় লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। তামাক থেকে যে রেভিনিউ সরকার পায়, তার থেকে বেশি ক্ষতি চিকিৎসা ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতেই চলে যায়। এজন্য যেকোনো মূল্যে আগামী ২০৪০ সালের মধ্যেই দেশ থেকে তামাক পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে। আর এ অসংক্রামক রোগের অন্যতম একটি বাহক তামাকের ব্যবহার। তাই এ তামাক নিয়ে যারা কাজ করবে, আমরা তাদের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক রাখব না।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনটিসিসির সমন্বয়কারী ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার।

অনুষ্ঠানে দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অবদানের জন্য এ বছর ৯ ক্যাটাগরিতে ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জাতীয় সম্মাননা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান’ ক্যাটাগরিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়, ‘জেলা টাস্কফোর্স কমিটি’ ক্যাটাগরিতে খুলনা টাস্কফোর্স কমিটি, ‘উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি’ ক্যাটাগরিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি, ‘শ্রেষ্ঠ মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী কর্মকর্তা’ ক্যাটাগরিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল ইসলাম, ‘কর্র্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম ও মো. আল-আমিন রহমান, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান’ ক্যাটাগরিতে ঝিনাইদহ পৌরসভা, ‘বেসরকারি সংস্থা’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং, ‘সাংবাদিক (প্রিন্ট মিডিয়া)’ ক্যাটাগরিতে এহসানুল হক জসীম এবং ‘সাংবাদিক (ইলেকট্রনিক মিডিয়া)’ ক্যাটাগরিতে সুশান্ত সিনহা তামাক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সম্মাননা-২০২৩ অর্জন করেন।