কালিয়াকৈরে সড়কের বাঁকে বাঁকে মৃত্যুফাঁদ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের বিপজ্জনক বাঁকগুলো এখন রীতিমতো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি পাশ্ব রাস্তাগুলো ডেকে আনছে ঘন ঘন দুর্ঘটনার বিপদ। গত এক বছরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাঁকে ছোট-বড় শতাধিক দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে পুলিশ, হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক শিশু, নারী-পুরুষ। চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকেই। এবার কোরবানির ঈদে এ সড়কে আরও দুর্ঘটনা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। 

এলাকাবাসী, পুলিশ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কয়েকটি সড়কের মধ্যে অন্যতম কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা সড়ক। যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বেড়েছে সড়কটির গুরুত্বও। এ সড়কে যাত্রী ও পণ্য নিয়ে হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছে। কিন্তু এ সড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার অংশের প্রায় ১৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯টি বাঁকই ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো হচ্ছে নামাশুলাই, খালপাড় কমিনিউটি ক্লিনিকের উত্তর ও দক্ষিণে দুটি, মেদীআশুলাই পুকুরপাড়, মেদীআশুলাই জামে মসজিদের পশ্চিম ও উত্তর পাশে ৩টি, ভাঙ্গাবাড়ী, কাঞ্চনপুর, টেকিবাড়ি, হবুয়ারচালায় ৩টি, মজিদচালা, বড়চালা, বাশাকৈর, ফুলবাড়িয়া বাজারের পূর্বপাশ ও সালদোপাড়ার বাঁক।

বেশিরভাগ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও পাশর্^ রাস্তায় সতর্কতামূলক সংকেত থাকলেও এখনো অনেক বাঁক অরক্ষিত। আবার সংকেত থাকলেও তা মানছেন না চালকরা। সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া ট্রাক, মাছবাহী ট্রাক, সিএনজিচালিত অবৈধ অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলগুলো।

তবে সড়ক সংশ্লিষ্টদের ভাঙ্গাবাড়ীর ভুল সংকেত অনুসরণ করলে নির্ঘাত দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হবে। অপরদিকে, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অবগত নয় সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা। এছাড়াও সংকেত ও চিহ্ন থাকার পরও বিপজ্জনক বাঁকে ওভারটেকিং, অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি, সড়কের ওপর যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ও মালামাল ওঠানো-নামানোর কারণে প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানিও। আর দুর্ঘটনার ফলে বিভিন্ন সময় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষমাণ থাকতে হচ্ছে যানবাহনকে। জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সময়ক্ষেপণ ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

এছাড়াও চাপাইর এলাকার তুরাগ নদের ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি ভেঙে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও সেদিকে নজর নেই যেন কারও। যোগাযোগ খাতে এ সড়কের পরিধি ও সংস্কার বাড়লেও যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি উপেক্ষিত।

গত শুক্রবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৪-৫টি স্পটে ছোট-বড় অন্তত ২০টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়েছেন সজীব আহমেদ ও শাহিন আলম নামে দুই তরুণ। এসময় চালকসহ প্রায় অর্ধশত যাত্রী আহত হন।

এবার কোরবানি ঈদকে ঘিরে এ সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কাতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ছাড়াও ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার শত শত গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো প্রশস্তকরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি সচেতন মহলের।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভি আহম্মেদ সুজন জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কতামূলক সংকেত দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, সম্প্রতি ওই সড়কে দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ট্রাফিক ও সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হবে। দুর্ঘটনা রোধে মোবাইল টিমের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।