কর পদক্ষেপে লাভবান হবে তামাক কোম্পানি

প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পাস হলে দেশে তামাকপণ্য সস্তা হবে বলে জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। সংগঠনগুলোর মতে, তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্নস্তরের সিগারেটে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সুনির্দিষ্ট আকারে আরোপ করা হলে সরকার কমপক্ষে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় আহরণ করতে পারত। অথচ সম্পূরক শুল্ক ৫৮ শতাংশ নির্ধারণ করায় তামাক কোম্পানিগুলো শুধু নিম্নস্তরের সিগারেট থেকেই ৪৮৬ কোটি টাকা বাড়তি আয় করবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মা তামাক করবিষয়ক বাজেট পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে বাজেটে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে সবধরনের তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বৃদ্ধির দাবি জানান অর্থনীতিবিদসহ তামাকবিরোধী নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, তামাক করকাঠামো সংস্কারের যে প্রস্তাব আমরা দিয়েছিলাম, বাজেটে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন নেই। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চূড়ান্ত বাজেটে এসব অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, নিম্নস্তরের সিগারেটে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্তরভেদে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরামূল্য ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে নিত্যপণ্যের চেয়ে তামাকপণ্য আরও সস্তা হয়ে পড়বে, মানুষ তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত হবে এবং জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, সিটিএফকে বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।