সবশেষ টেস্ট খেলার স্মৃতির বয়স দুই বছরের বেশি। ২০২১ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা সেই টেস্টে ৬ উইকেটের জয় যতটা প্রেরণা দিচ্ছে আফগানদের, তার চেয়েও বেশি প্রেরণা জোগাচ্ছে ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেওয়ার স্মৃতি। আফগানিস্তানের সেটা ছিল মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট, বাংলাদেশের ১১৫তম। তাই বাংলাদেশের ১৩৮তম আর নিজেদের সপ্তম টেস্ট ম্যাচের আগে কোনো জড়তা নেই আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদির কণ্ঠে। জানালেন, তৈরি হয়েই বাংলাদেশে এসেছেন এবং জয় ছাড়া অন্য কোনো লক্ষ্য তার দলের খেলোয়াড়দের মাথায় নেই।
চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারানোর স্মৃতি রোমন্থন করেই হাশমতউল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, ‘এটা (২০১৯ সালের জয়) আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। আমরা এখানে একটি মাত্রই টেস্ট খেলেছি এবং সেটা জিতেছি, যা আমাদের প্রবলভাবে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। আমরা সেখান থেকেই শুরু করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য থাকবে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা এবং শেষ ম্যাচ থেকে আত্মবিশ্বাস নেওয়া।’
টি-টোয়েন্টিতে বিশে^র নানান জায়গায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আফগান ক্রিকেটারদের চাহিদা বাড়ছে। হাশমতউল্লাহ জানালেন, আফগানিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের কাঠামো উন্নত হচ্ছে, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বেশ ভালো। প্রতিটি দল ৮-৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টায় আছে। আপনি যদি ঘরোয়া ক্রিকেটে লঙ্গার ফরম্যাটে বেশি ম্যাচ খেলেন, তাহলে টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এতে আমাদের উন্নতি হবে।’ আফগানদের স্পিন বা পেস বোলিং নিয়ে যতটা চর্চা হয়, ব্যাটিং নিয়ে ততটা হয় না। তবে হাশমতউল্লাহ মনে করেন, আফগান ব্যাটসম্যানরাও এখন বড় দৈর্ঘ্যরে ম্যাচে ব্যাট করাটা শিখে গেছেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যান যারা আছে, তারা প্রতে্যকেই ভরসা করার মতো। তারা আগে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। সম্প্রতি ওয়ানডে ক্রিকেটে ভালো করেছে। ইব্রাহিম, রহমত শাহ। আমি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছিলাম। এ ছাড়া প্রতিশ্রুতিশীল বেশ কজন ভালোমানের ব্যাটসম্যানও আছে। আমি বিশ^াস করি আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো করবে এবং তারা দিন দিন আরও উন্নতি করবে। দলের থেকে এটাই প্রত্যাশা করছি। আশা করছি তারা যা চাইছে তা করতে পারবে।’
দলে রশিদ খান নেই, তবে নতুন এক লেগস্পিনার ইজহারুল হক নাভিদ আছেন। এখনো অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এই বোলারকে নিয়ে খুব আশাবাদী আফগান অধিনায়ক, ‘সে ভালোমানের স্পিনার। টি-টোয়েন্টিতে সে বিগব্যাশে খেলেছে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট একেবারেই ভিন্ন। তবে এর আগে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সে ভালো করেছে। ভবিষ্যতে আফগানিস্তান দলের তারকা ক্রিকেটার হতে পারে সে।’
সোমবার সকালে অনুশীলন ছিল আফগানদের, যা কিছুটা ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে। ঢেকে ফেলার আগে উইকেটেও দেখেছেন সবুজের উপস্থিতি। সব মিলিয়ে হাশমতউল্লাহর মনে হচ্ছে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেওয়া খুবই সম্ভব, ‘উইকেট যেটা দেখলাম, মনে হচ্ছে তারা কিছুটা সবুজ উইকেট তৈরি করেছে। এতে আমাদের আপত্তি নেই। আমাদের ভালোমানের সিম বোলার আছে। সঙ্গে ভালো স্পিন অপশনও রয়েছে। আমরা আসলে আমাদের শক্তি নিয়েই চিন্তা করছি, আমাদের আসলে কী আছে, সেটা নিয়েই কাজ করতে হবে। আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত আছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ওই ম্যাচের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও খেলেছি কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত টেস্ট ম্যাচ পাইনি। তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা ভালোমানের ক্রিকেটার পেয়েছি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে যারা টেস্ট ক্রিকেট ভালো খেলতে পারে। আমাদের লক্ষ্য ইতিবাচক থাকা এবং টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির জন্য আরও পরিশ্রম করা।’
মিরপুরের চতুর্ভুজে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছে ঘূর্ণি উইকেটের ফাঁদ পেতেই। আফগানদের রশিদ খান না এলেও বাঁহাতি চায়নাম্যান জহির খান, লেগস্পিনার ইজহারুল হক নাভিদসহ দুই পেসার ইব্রাহিম আব্দুল রহিমজাই ও নিজাত মাসুদ আছেন বোলিং আক্রমণে। সঙ্গে অলরাউন্ডার করিম জানাতও। তাই ২০১৯-এর পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখতেই পারে আফগানরা, যা হয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন।