রাশিয়ার অন্যতম মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার লুকোশেঙ্কো সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য আক্রমণের জবাবে প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতেও দ্বিধা করবেন না তিনি।
এর একদিন আগে রাশিয়ার দখল থেকে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের সাতটি গ্রাম পুনরুদ্ধারের দাবি করে কিয়েভ বাহিনী। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ এই মিত্র এমন এক সময়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করলেন, যার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার দেশের সীমান্তে রাশিয়া তার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে যাচ্ছে।
বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৩ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার লুকোশেঙ্কো বলেছেন, ‘কয়েকদিনের’ মধ্যেই রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বেলারুশে মোতায়েন করা হবে। মিনস্ক আগে থেকেই এই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলেও এ সময় জানান তিনি।
এদিন বেলারুশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বেল্টা নিউজ প্রেসিডেন্ট লুকোশেঙ্কোর মন্তব্যকে উদ্বৃত করে জানায়, ‘সব কিছু প্রস্তুত। আমি মনে করি, আমরা যা চেয়েছিলাম , তা কয়েক দিনের মধ্যেই পেয়ে যাব আমরা। প্রত্যাশার চেয়েও সেখানে আরও বেশি কিছু থাকবে বলে আশা করছি আমরা।’
এ সময় প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে সম্ভাব্য আক্রমণে প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে তার দ্বিধা না থাকার কথাও স্পষ্ট করে জানান লুকোশেঙ্কো।
এ অস্ত্রগুলোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশী সৈন্য যাতে বেলারুশের মাটিতে আবারও পা না রাখতে পারে , তা নিশ্চিত করতেই এগুলোর দরেকার আমাদের।
ঈশ্বর না করুন, ‘আমাকে যেন এই অস্ত্র ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে না হয়। তবে এটাও নিশ্চিত যে, আমাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো হলে কোনো দ্বিধাও থাকবে না।’
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকোশেঙ্কোর এই সতর্কবাতার কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘোষণা দেন যে, আগামী জুলাইয়ের ৭-৮ তারিখে বেলারুশ সীমান্তে কৌশলগত রুশ পারমাণবিক অস্ত্র মোতয়েন করা হবে।