খননের পরও হেঁটে পার হওয়া যায় ব্রহ্মপুত্র

মুখ থুবড়ে পড়েছে ময়মনসিংহের পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজ। পাঁচ বছর মেয়াদি খনন প্রকল্পের চার বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই! এ সময়ে খননকাজে ব্যয় হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা।

ধীরগতির খননকাজের পরও ব্রহ্মপুত্র নদে প্রত্যাশিত পানির প্রবাহ ফিরে আসেনি। উল্টো খননকাজের অনেক এলাকায় নতুন করে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। নদের অনেক জায়গায় হাঁটুসমান পানি। হেঁটেই নদ পার হচ্ছেন অনেকে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের বিরাট অংশজুড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। কোথাও হাঁটুসমান পানি। তাতে হেঁটে পার হচ্ছেন মানুষজন, গবাদিপশু। অনেক জায়গায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির প্রবাহ নালার মতো। ময়মনসিংহ নগরীর খাগডহর, জেলখানার ঘাট, পুলিশ লাইনস, জয়নুল আবেদিন উদ্যান, কাচারিঘাট, জুবলি ঘাট, থানার ঘাট, কালীবাড়িসহ বেশ কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের এমন মরণদশা।

ময়মনসিংহবাসীর প্রধান দাবি ছিল পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদ খননের। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার চলতি মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রকল্প হাতে নিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়। বলা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ব্রহ্মপুত্র নদে শুষ্ক মৌসুমেও ১০ ফুট পানির প্রবাহ থাকবে। প্রশস্ত হবে ৩০০ ফুট। এমনটি হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। বদলে যাবে ব্রহ্মপুত্র নদের দুই পাড়ের মানুষের জীবনধারা। নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। উন্নয়ন ঘটবে মৎস্য সম্পদের। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া কমে আসবে।

কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর শেষ হওয়ার পর এখনো কোনো কিছু দৃশ্যমান না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন ময়মনসিংহবাসী।

এ রকম পরিস্থিতিতে নাগরিক আন্দোলন নামে সংগঠন নদের খননকাজ সঠিকভাবে করার জন্য নদীর মাঝে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ‘নাগরিক আহাজারি’ নামের অভিনব প্রতিবাদের আয়োজন করে। জনউদ্যোগ নামে একটি সংগঠন খাগডহর ও কাচারিঘাট এলাকায় মিডিয়া ক্যাম্পেইন করে।

এর আগে খননের নামে ব্রহ্মপুত্র নদকে মেরে ফেলা হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে কাচারিঘাট এলাকায় হাঁটুসমান পানিতে নেমে ‘মৃতের চিৎকার’ ব্যানারে মানববন্ধন করে ময়মনসিংহ শহর ও কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা তরুণ-তরুণীরা। এ সময় তারা বিষাদের গান গেয়ে প্রতিবাদ জানায়।

এছাড়াও গত ৭ মে ময়মনসিংহ নগরীর শহীদ ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্বরে নাগরিক আন্দোলন মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে পরিকল্পিতভাবে ব্রহ্মপুত্র নদ খননের দাবি জানায়। গত ১৪ মে নাগরিক আন্দোলন কার্যালয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন আদায়ে পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে এবং গত ২১ মে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে নাগরিক আন্দোলন। কিন্তু এসবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে দাবি করেন ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও ব্রহ্মপুত্র খননের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মোহসিন মিয়া জানান, খননকাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। খননের পরও বারবার চর জেগে যাওয়ার কারণে ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখ যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের সংযোগস্থলে খননের কাজ শুরু করা যায়নি।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার টোক থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের যমুনার উৎসমুখ পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। দুই হাজার ৭৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এই মেগা প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা।