বৃষ্টিতে জলমগ্ন সিলেট নিষ্কাশন নিয়ে সংঘর্ষ

প্রবল বর্ষণে গতকাল বুধবার সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তুলনামূলক নিচু এলাকার বাসা, দোকানপাট, সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি বর্ষায় সিলেট নগরীর অনেক এলাকার লোকজনকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়তে হয়। বৃষ্টির পানি বাসা-বাড়ি, দোকানে ঢুকে নষ্ট হয় মূল্যবান জিনিসপত্র। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও দুর্ভোগ দূর হচ্ছে না। সিলেট সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনেও প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের অন্যতম দাবি হলো নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা।

গতকাল ভোর থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হলে যথারীতি জলমগ্ন হয়ে পড়ে নিচু এলাকাগুলো। সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রবল বৃষ্টিপাত চলাকালে নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারগাঁও-বাদাঘাট সড়ক নির্মাণকাজের জন্য সেখানে পানি নিষ্কাশন বিঘিœত হয়। আশপাশের অনেক বাড়িতে পানি ঢুকতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মইয়ারচর, নয়া কুররমখোলা, নাজিরেরগাঁও, শিমুলতলা এলাকার লোকজন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সেখানে গিয়ে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সড়ক ও জনপথের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে অনুরোধ জানান। দুপুর ২টার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের জন্য সোনাতলা এলাকার একটি রাস্তা কাটার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এতে বাধা দেন স্থানীয় লোকজন। এর জেরে সোনাতলা এলাকাবাসীর সঙ্গে মইয়ারচর, নয়া কুররমখোলা, নাজিরেরগাঁও, শিমুলতলা এলাকার মানুষের বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে তা তুমুল সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল ছুড়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ হয়।

এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিকেল ৪টার দিকে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জালালাবাদ থানার ওসি সাইফুল আলম রুকন জানান, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নিয়ে দুপক্ষের শত শত লোক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হন।