নীলফামারীতে প্রদর্শিত হবে ‘সাঁতাও’

রংপুর অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনকে উপজীব্য করে তিস্তা পারের কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সার্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় আবর্তিত গল্পের সিনেমা ‘সাঁতাও’। গণ-অর্থায়নে নির্মিত এ সিনেমা আগামীকাল ১৬ ও ১৭ জুন (শুক্র ও শনিবার) দুইদিন সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৮টায় নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রর্দশিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী কালচারাল অফিসার কে. এম আরিফুজ্জামান।

তিনি জানান, শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সাঁতাও’ এর চারটি শো চলবে। ১৬ ও ১৭ জুন সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৮টায় দর্শনীর বিনিময়ে ছবিটির চারটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য টিকিট পাওয়া যাবে নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমিতে ৫০টাকা মূল্যে।

চলচ্চিত্রের গল্পে তিস্তা বাজার এলাকায় সুমনের বেড়ে ওঠা। তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ অঞ্চলের মানুষগুলো। ‘সাঁতাও’ একটি রংপুরি শব্দ। সাঁতাওয়ের প্রচলিত অর্থ মূলত সাতদিন ধরে বৃষ্টি। এ সিনেমায় তিনি তুলে ধরেছেন, তিস্তার পারের মানুষের সংগ্রাম। কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সর্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় আবর্তিত হয়েছে সাঁতাওয়ের কাহিনী। বৃষ্টি ও উজানের বন্যায় তিস্তা পারের মানুষের কষ্ট দুঃখ তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

সাঁতাওয়ের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল ও ফজলুল হক। এর অন্যান্য চরিত্রে আছেন আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, মো. সালাউদ্দিন, সাবেরা ইয়াসমিন, শ্রাবণী দাস রিমি, তাসমিতা শিমু, কামরুজ্জামানসহ অনেকে। এছাড়া লালমনিরহাট ও নীলফামারীর তিস্তার এলাকাবাসীদের দেখা যাবে এ সিনেমায়। এটি নির্মাণ করেছেন এর খন্দকার সুমন।

‘সাঁতাও’ গণ-অর্থায়নে নির্মিত একটি স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র। খন্দকার সুমনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। চলচ্চিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৩তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। বাংলাদেশে প্রথম প্রদর্শনী হয় এ বছর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এই উৎসবে বাংলাদেশ প্যানোরমা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ফিপরেসি অ্যাওয়ার্ড লাভ করে সিনেমাটি।

এছাড়া ভারতের অজন্তা-ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮ম আসরের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত ও নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে গৌতম বুদ্ধ পুরস্কার পায় সাঁতাও।