সাভারের আশুলিয়ায় কৌশলে এক ব্যাংক কর্মীকে অপহরণ করার পর একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাইদুর হোসেন (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক।
ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তার নাম মশিউর রহমান (৩৭)। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানায়। তিনি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের মতিঝিল শাখায় অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকার কদমতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
এদিকে গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারী সাইদুরের বাড়ি ঢাকার ধামরাই থানার বালিয়া গ্রামে। বর্তমানে সে আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকার ওসমান গণির ৮তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।
অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক কর্মী মশিউর ঢাকা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য সাভারে আসছিলেন। পথে অস্বস্তি লাগলে বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম ভাঙার পর দেখেন তিনি আশুলিয়ার পলাশবাড়ি বাস স্ট্যান্ডে । এ সময় কয়েকজন মিলে ধরে তাকে একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে মোবাইলের মাধ্যমে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়। পরে নিজের কাছে থাকা নগদ ১২ হাজার এবং আত্বীয় স্বজনের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টাকা দিয়ে অপহরণকারীদের কবল থেকে মুক্তি পান মশিউর।
ভুক্তভোগী মশিউর রহমান বলেন, গত ১৩ জুন (মঙ্গলবার) ঢাকা থেকে বাসে ওঠার পরই তাদের কেউ আমাকে টার্গেট করে কিছু একটা করেছে। এর ফলে আমি অনেকটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ি। পরে আশুলিয়া বাস থেকে নামার পরে অপরিচিত এক ব্যক্তিকে প্রথমে 'কথা আছে বলে আমাকে থামায়। পরে আরও কয়েকজন ব্যক্তি মিলে কৌশলে একটি বাসায় নিয়ে যায়। ওই বাসায় ঢুকতেই তারা আমাকে মারধর করে মানিব্যাগে থাকা ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে আমার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং প্রায় তিন লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি পাই আমি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক বলেন, অপহরণকারী সাইদুরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে আরও ৪ জন জড়িত আছেন বলে জানিয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছেনা।