নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বে টেস্ট ক্রিকেটে পথ চলাটা শুরু হয় বাংলাদেশের। তবে প্রথম জয় এসেছিল অভিষেকের ৫ বছর পর। সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। এই বাঁহাতি স্পিনারের ঘূর্ণিতে কাবু হয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তারপরের বড় জয়টি ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সেখানেও অবদান স্পিনারদেরই। ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে টাইগারদের জয় মানেই যেন স্পিনারদের দাপট।
তবে সেসবকে ছাপিয়ে দেশের ক্রিকেটে টেস্টের ঐতিহাসিক জয় হিসেবে জায়গা করে নেয় মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট। যেখানে নিউজিল্যান্ড ঘরের মাঠে পরাজিত করে মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলটি। স্পিন নির্ভরতা কমিয়ে পেস বান্ধব একাদশ সাজাতে দেখা গিয়েছিল সেই ম্যাচে। এবাদত হোসেন তার ক্যারিয়ার সেরা উইকেট পেয়েছিলেন সেদিনই। জয়ের নায়কও ছিলেন এই টাইগার পেসার।
মুমিনুলের সময় থেকেই দেশের ক্রিকেটের টেস্ট দলে পালা বদলের হাওয়া লাগে। স্পিন নির্ভরতা কমে আসে তখন থেকেই। তারপর এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান নেতৃত্ব ছেড়েছেন। তবে কৌশল বদলায়নি টাইগারদের। আর তাতেই ফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে তারা পেয়েছে ইতিহাস গড়া রেকর্ড ৫৪৬ রানের জয়।
এই জয়ের পথে বোলিং ইউনিটে অবদান পেসারদেরই। মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের এই উইকেটটি ছিল পেস সহায়ক। ম্যাচে দুই দল হারিয়েছে ৩৪ উইকেট। যার মধ্যে ২১টি নিয়েছেন পেসাররা। যার ১৪টি আবার বাংলাদেশি পেসারদের। মুমিনুল অধিনায়ক হয়ে পেসারদের যে বীজ বুনে গিয়েছিলেন, সেটাই আজ হয়ে উঠেছে যেন ভরসাযোগ্য এক বৃক্ষ। যার থেকে ফল ভোগ করছেন নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আর আফগান টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া লিটন দাস।
মুমিনুলের হাত ধরে টেস্ট ক্রিকেটে এমন পেস বিপ্লবের সুফল বয়ে আনেছে, এটা দেখে সাবেক এই অধিনায়কের সন্তুষ্টি কাজ করে কী না? নাকি কোনো আফসোসও হয়? ২৬ মাস পর শুক্রবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মুমিনুল হক। তাতে ঘুচিয়েছেন রান খরা। দিনের সেরা হয়ে তাই সংবাদ সম্মেলনে আসেন টাইগারদের প্রতিনিধি হয়ে। সেখানেই করা হয় পেস বিপ্লব নিয়ে এই প্রশ্ন।
যার জবাবে বাঁ হাতি এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘কোনো আফসোস কাজ করে না। সন্তুষ্টি কাজ করে। আপনারা যদি বলেন, তাহলে আরও সন্তুষ্টি কাজ করবে (হাসি)।’
কাল তৃতীয় দিন শেষে আফগানিস্তান পিছিয়ে ছিল ৬১৭ রানে। টাইগারদের প্রয়োজন ছিল আর ৮ উইকেট। যার প্রথমটি নিয়েছিলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। চতুর্থ ইনিংসের প্রথম বলেই তিনি ফিরিয়ে দেন ইব্রাহিম জাদরানকে। আজ সকালে নিয়েছেন তিনি আরও দুই উইকেট। এবাদত হোসেনও পেয়েছেন একটি উইকেট। আর শেষ বেলায় নিজের চেনা ছন্দে ফিরে তাসকিন আহমেদ আদায় করে নেন ৪ উইকেট। যা দেখেও সন্তুষ্টিই কাজ করার কথা মুমিনুলের। যা জানিয়েছিলেন গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে।
তার বুনে আসা বীজ থেকে হয়ে ওঠার গাছের ফল এই টেস্টে খেয়েছেন লিটন দাস। জয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হওয়ার পর তার কাছেও জানতে চাওয়া হয় এই বিষয়ে। তবে সাকিবের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়া লিটনের দর্শনটা অবশ্য ভিন্ন। প্রতিপক্ষ বুঝে উইকেটের সুবিধা নেওয়ার পক্ষেই মত দিলেন তিনি।
পেস বান্ধব উইকেট নিয়ে সেই প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, ‘এটা নির্ভর করছে আমরা কার সঙ্গে খেলছি। এমন না যে শুধু স্পিন উইকেটে খেলব বা শুধু পেস উইকেটে খেলব। যার সঙ্গে খেলব তাদের শক্তি, দুর্বলতা সব কিছু পর্যালোচনা করে, হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা যেটা অন্যান্য দলগুলো করে, আমরা সেটাই করব।’