মুরাদনগরে ভোগান্তিতে দুই গ্রামের মানুষ

১০ বছর ধরে সেতু আছে সংযোগ নেই

কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রায় ১০ বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের বিএডিসির ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় একটি কেটেল ক্রসিং (সেতু) নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সেতুতে সুফল পাচ্ছেন না শুশু-া ও নয়াকান্দি গ্রামের মানুষ।

জানা যায়, উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশু-া গ্রামের সঙ্গে শুশু-া নয়াকান্দি গ্রামের সংযোগ করতে দুই গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপরে সেতুটি নির্মাণ করে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। ব্যক্তিগত স্বার্থে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্মাণের পর থেকে সেতুর দুই পাশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে নয়াকান্দি গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

শুশু-া নয়াকান্দি গ্রামের কবির হাজী বলেন, দুই গ্রামের মানুষের চলাচল, জমি থেকে ফসল ও কৃষি যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়ার জন্যই এই সেতুটি নির্মাণ করে দিয়েছিল বিএডিসি। নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নানা উপায়ে সেতুর দুই পাশে মাটি ফেলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কামাল তা হতে দিচ্ছে না। তার দাবি, সেতুটি নাকি সরকার এককভাবে তাকে ব্যবহার করতে দিয়েছে। ১০ বছর আগে সেতু পেয়েও আমাদের দুই গ্রামের মানুষের সেই সাঁকোতেই ভরসা করতে হচ্ছে।

অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেতুটি নির্মাণ করার সময় বাজেট সংকট ছিল। তাই ঠিকাদার দুই পাশের মাটি দেয়নি। আর কেউ যদি মাটি ফেলে এটার ওপর দিয়ে চলাচল করে, তাতে আমার কোনো বাধা নেই।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মুরাদনগর উপজেলা বিএডিসি কর্মকর্তা কাউছার আল মামুন বলেন, কেউ যদি নিজস্ব স্বার্থে সেতু ব্যবহার করতে না দেয় তাহলে অবশ্যই সেটি অপরাধ। সেতু জনসাধারণের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি আমার পুরোপুরি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দীন ভূঞা জনী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, ভুক্তভোগী কেউ একজন লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।