তিস্তার পানি বিপৎসীমার দশমিক ২০ সেন্টিমিটার নিচে

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি।

রবিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ হচ্ছে ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার (৫২.১৫ বিপৎসীমা)। যা বিপৎসীমার দশমিক ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতে পানি আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তিতে পরেছে তিস্তাপাড়ের মানুষ। চর এলাকায় চাষাবাদের জন্য বসবাসরত লোকজন উচু এলাকায় চলে আসছেন। নৌকায় করে চরের ফসল নিয়ে আসছেন উচু এলাকায়।

রবিবার ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, শুক্রবার (১৬ জুন) থেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ৫১.৮৪ সেন্টিমিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। যা রবিবার (১৮ জুন) সকাল ৬টায় ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। বিকাল ৩টায় পানি কিছুটা কমলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা আবারও বৃদ্ধি পায়। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ডালিয়ায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অপরদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দোমহনী বন্যা পুর্বাভাস ও বন্যা সর্তকীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে আরো জানান, সিকিম, দার্জিলিং পাহাড়ে ও সমতলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি কারণে গজলডোবা ও মেখলিগঞ্জ (বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত) তিস্তা ব্যারেজে বেশ কিছু জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। ভারত তাদের এলাকার দোমহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে হলুদ সংকেত জারী করেছে। বর্তমানে মেখলিগঞ্জে তিস্তার পানি ৬৫.৮৭ সেন্টিমিটার (৬৫.৯৫ বিপৎসীমা) দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

এছাড়া ভারতে দোমহনী তিস্তা পয়েন্টে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তিস্তার পানি ৮৫.৭১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টের তিস্তার বিপৎসীমা ৮৫.৯৫।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডালিয়ার তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।