বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য মূল দায়ী কার্বন নিঃসরণ, যার নেপথ্যে আছে তেল-গ্যাস-কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি। এসব পোড়ানোর মাধ্যমে দিন দিন বাড়ছে কার্বনের মাত্রা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশ্বের উষ্ণতা, ফলে বদলে যাচ্ছে জলবায়ু। আর এ জলবায়ু পরিবর্তন হুমকিতে ফেলছে মানুষ ও জীবজগতের অস্তিত্বকে। উন্নত সচেতন দেশগুলো কথা দিচ্ছে তারা কার্বন নিঃসরণ কমাবে এবং আগামীতে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠবে। এ প্রেক্ষাপটে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপে এগিয়ে গেল সুইজারল্যান্ড। জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, পরিবেশ বাঁচাতে নতুন জলবায়ু বিলের পক্ষে রায় দিয়েছে সুইজারল্যান্ডের সাধারণ মানুষ। এ বিলে ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্য করার কথাও বলা হয়েছে। আর সেই সময় পুরোপুরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরশীল হবে ইউরোপের এ দেশ। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সুইজারল্যান্ডে আল্পস হিমবাহের বরফ গলছে। পরিবেশগত বিপর্যয়ের সামনে থাকা এ দেশটি প্রস্তাবিত বিল নিয়ে গণভোটের আয়োজন করে। ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বিলের পক্ষে রায় দিয়েছে। দক্ষিণপন্থি সুইস পিপলস পার্টি ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক দল বিলের পক্ষে।
সুইজারল্যান্ডে তেল ও গ্যাসের প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। যার অনেকটাই আসে রাশিয়া থেকে। বিলে বলা হয়েছে, তেল ও গ্যাসের বদলে বিকল্প শক্তির পথে হাঁটবে সুইজারল্যান্ড। সেজন্য আগামী এক দশকে ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ খরচ করা হবে। পুরোপুরি গ্রিন এনার্জির দিকে ঝুঁকবে সুইজারল্যান্ড।
হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ম্যাথিয়াস হাস টুইট করে বলেছেন, ‘আমার ভালো লাগছে যে, মানুষ পরিবেশ বাঁচানোর পক্ষে রায় দিয়েছে। পরিবেশবিজ্ঞানীদের কথা শুনেছে তারা।’
সোশ্যালিস্ট পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য ভ্যালেরি ক্যালার্ড বলেছেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ ভোটাররা দ্বিতীয় গণভোটের সময় বহুজাতিক সংস্থার ওপর ১৫ শতাংশ হারে পরিবেশ কর চাপানোর সিদ্ধান্তও সমর্থন করেছিল। ৭৯ শতাংশের বেশি ভোটদাতা এ পদক্ষেপের পক্ষে।