সোনারগাঁয়ে স্কুলের জমি দখল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের রামগোবিন্দেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মফিজ সরকার নামে এক ব্যক্তি স্কুলের এক শতাংশের বেশি জমি নিজের দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি রামগোবিন্দেরগাঁও স্কুলের চারদিকের বাউন্ডারির কাজ শুরু হয়েছে। স্কুলের সীমানা ঘেঁষা রাস্তার পাশে মফিজ সরকার এক দশমিক ষোল শতাংশ জমি নিজের দখলে নিয়ে গেছেন। এ জমি বাদ দিয়েই স্কুলের বাউন্ডারি করার জন্য মফিজ সরকার ও তার লোকজন স্কুল কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার পাশের এ জমি মূল্যবান হওয়ায় মফিজ সরকার স্কুলের এ জমি নিজ দখলে নিয়েছেন। তবে এলাকাবাসীর চাপের মুখে অন্য দিক দিয়ে তিনি সমপরিমাণ জমি স্কুলকে দেবেন বলে মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো লিখিত কাগজপত্র হয়নি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিরিনা আক্তার জানান, স্কুলের পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মফিজ সরকার তার সুবিধার জন্য স্কুলের এক শতাংশ ষোল পয়েন্ট জমি নিজ দখলে নিয়েছেন। তবে তার সঙ্গে কথা হয়েছে তিনি সমপরিমাণ জমি অন্য পাশ নিয়ে স্কুলকে দিয়ে দেবেন।

স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য সাবেক ইউপি সদস্য আলী আহমেদ জানান, এ জমি নিয়ে গত ২৮ মে স্কুলে সভা হয়েছে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয় মফিজ সরকারকে এক শতাংশ ষোল পয়েন্ট জমি দিয়ে দেওয়া হবে। বিনিময়ে তিনি সমপরিমাণ জমি স্কুলকে দিয়ে দেবেন।  মফিজ সরকার জানান, আমার জমিটি কিছুটা বাঁকা হওয়ায় এটি সোজা করার জন্য এলাকার পঞ্চায়েত কমিটিকে অবগত করেছি। তাদের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী আমাকে এক শতাংশ ষোল পয়েন্ট জমি দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে আমি অন্য জায়গা দিয়ে সমপরিমাণ জমি স্কুলকে দিয়ে দেব বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জমি রদবদলের কোনো লিখিত দলিল হয়নি।

সোনারগাঁ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান জানান, সরকারি স্কুলের জমি এভাবে রদবদলের কোনো সুযোগ নেই। যদি ওই স্কুলে কেউ এমন কিছু করে থাকে তবে এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।