সবার সামনে ভীষণ ইতিবাচক কাবরেরা

আসর-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনগুলোতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কোচরা বড্ড সোজা সাপটা কথা বলতে পছন্দ করেন। নিজেদের তত্ত্ব, তথ্য, ছক সেভাবে প্রকাশ করতে চান না। সবার কথাতেই জানা যায় লক্ষ্য পূরণের প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরাও বাদ যাবেন কেন! বাস্তবতা যাই হোক, কিংবা র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান, বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচও চোখ রাখছেন ওপরে। গ্রুপ প্রতিপক্ষের সামনে নিজেকে দুর্বল হিসেবে হাজির করেননি বাংলাদেশ কোচ। বরং থেকেছেন ভীষণ ইতিবাচক। তার বিশ্বাস কঠিন তিনটি ম্যাচের চ্যালেঞ্জ উতরে তার শিষ্যরা নাম লিখাবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাভিয়ের কাবরেরা অখ্যাত এক নাম। বাংলাদেশের আগে কখনো কোনো জাতীয় দলের হয়ে কোনো পর্যায়েই কাজ করা হয়নি তার। তাই দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ফুটবল আসরে দল নিয়ে গিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য করছেন কোচ। র‌্যাংকিংয়ে ১৯২তম দেশের কোচের সেটা মানায়ও না। তার ওপর তার শিষ্যদের শুরুতেই মোকাবিলা করতে হবে এই আসরে বিশ্ব র‌্যাংকিং হিসেবে সবচেয়ে শক্তিশালী দল লেবনানকে। শুরুতেই বিচূর্ণ হওয়ার একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। দলের সামর্থ্য বা প্রস্তুতি যেমনই হোক, কাবরেরাকে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে থাকতে হয়েছে ইতিবাচক। ‘বি’ গ্রুপের বাকি তিন দলের কোচদের পাশে বসে কাবরেরা বলতে শুরু করেন, ‘দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা এসেছি। প্রথম এক সপ্তাহ দেশে প্রস্তুতি নেওয়ার পর কম্বোডিয়া যাই। সেখানে কার্যকর দুটি ম্যাচ খেলেছি। যা থেকে ছেলেরা ইতিবাচক ফলাফল আনতে পেরেছে। এখন আমরা তাকিয়ে আছি মূল পরীক্ষার দিকে।’ লেবাননকে সব দিক থেকে এগিয়ে রেখে কাবরেরা আশায় আছেন ইতিবাচক ফলাফলের, ‘আমাদের এখন সব মনোযোগ দিতে হবে নিজেদের খেলায়। নিজেদের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে। প্রতিপক্ষ দল ভীষণ শক্তিশালী। তাদের ফুটবলাররা অনেক বেশি ম্যাচ খেলে এই আসর শুরু করতে যাচ্ছে। তারা প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে নামবে। তবে আমরাও পুরোপুরি প্রস্তুত। যে ধরনের আবহাওয়ায় আমরা ঢাকায় খেলে অভ্যস্ত, এখানে ঠিক সে রকম আবহাওয়াই। তবে আবহাওয়া সবার জন্য একই থাকবে। এটা আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা মনে করি না।’

কম্বোডিয়া জাতীয় দল ও সে দেশের শীর্ষ একটি ক্লাবকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভারতে গিয়েছে বাংলাদেশ। ছেলেদের মধ্যেও একটা বাড়তি অনুপ্রেরণা দেখতে পাচ্ছেন কোচ, ‘সবাই খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। খুব কঠিন একটা গ্রুপ আমরা সবাই চাই উতরে যেতে। আমাদের জন্য এই আসরটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সর্বশেষ পাঁচটি আসরে আমরা সেমিফাইনালে যেতে পারিনি। আমরা বিশ্বাস করি, যদি আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে হয়তো আমাদের জন্য সুযোগ আসবে সেমিফাইনালে যাওয়ার। লক্ষ্য পূরণ করতে ভীষণ কঠিন তিনটি ম্যাচ খেলতে হবে আমাদের।’

লেবাননের পর বাংলাদেশকে ২৫ জুন মালদ্বীপ ও ২৮ জুন ভুটানের বিপক্ষে খেলতে হবে।