গাবতলী হাট

ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগে পশু কেনা শুরু

গাবতলী হাটে পশু বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। হাটের ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগে অনেকেই কোরবানি পশু কিনছেন। যে কারণে দেশের সর্ববৃহৎ গাবতলী পশু হাটের বিক্রি বেড়েছে। গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া এবং দুম্বাও উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ এই হাটে। তবে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় গত বছরের ন্যায় এবারও উটের দেখা মিলবে না ওই হাটে।

কোরবানি উপলক্ষে গাবতলী হাটের চারপাশে অস্থায়ী শেড তৈরি করা হয়েছে। এতেকরে হাটে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুন বেশি পশুর ধারণ ক্ষমতা তৈরি হয়। ঢাকায় স্থায়ীভাবে থাকেন এমন অনেক মানুষের কাছে গাবতলী হাটে পশু কেনা আবেগ ও আস্থার ব্যাপার। ঢাকায় কোরবানি উপলক্ষে অনেক জায়গায় হাট বসলেও সেখানে তারা যান না।

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলী হাটের চারদিকে কোরবানি হাট প্রশস্ত করার কাজ শেষ হয়েছে। পশু রাখার শেডগুলো প্রস্তুত হয়েছে। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা উঠেছে হাটে। কিছুক্ষণ পর পর গাড়ি ভর্তি পশু নামছে হাটে। গতকালও অর্ধেক হাট খালি দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, গত বছর বৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমে ব্যবসায়ীরা কষ্ট পেয়েছেন। এ জন্য এবার সবাই একটু দেরিতে পশু আনছেন। কোন ব্যাপারী কোন হাটে পশু উঠাবেন, সেটা নির্ধারিত করা হয়েছে। অস্থায়ী হাটের মতো গাবতলী স্থায়ী হাটে পশু ওঠানো নিয়ে কোন বিশৃঙ্খলা হয় না বলে দাবি তাদের।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, গাবতলী পশু হাটের সব শেডে ছাউনি নেই। এ জন্য গতকাল ছাউনি ছাড়া শেডের পশুদের প্রচণ্ড তাপে কষ্ট পেতে দেখা গেছে। স্থায়ী যেসব শেডে ছাউনি রয়েছে, সেসব শেডের পশুগুলো সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গাবতলী হাটে অবস্থান করে বেশ কিছু পশু বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব পশু কোরবানির জন্যই কিনেছেন ক্রেতারা। পশু কিনে হাসিল ঘরের সামনে এনে তারা গলায় মালা, কপালে চান্দিনা ও শিংয়ে রঙিন কাপড় বেঁধে সাজাতে দেখা গেছে। সুসজ্জিত পশুকে ট্রাকে উঠিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. সাকিব হোসেন। বুধবার গাবতলী পশু হাট থেকে কোরবানির জন্য একটি গরু কিনেছেন। মাঝারি আকৃতির গরুটির দাম পড়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সঙ্গে হাসিল দিতে হয়েছে ৭ হাজার ৮০০ টাকা। পশু কিনতে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান ১০ বছরের কন্যা ও স্বজনদের। আগেভাগে পশু কেনার কারণ জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাসার পাশে তাদের পশু রাখার জায়গা আছে। এ জন্য আগেভাগে কিনেছেন। পশু হিসেবে গত বছরের চেয়ে তারটার দাম কিছুটা বেশি বলে মনে হয়েছে। বিদ্যমান দ্রব্যমূল্যের উধর্¦গতির সময়ে এটা স্বাভাবিক বলে অভিমত তার।

কামরাঙ্গীরচরের গনি মোল্লা বুধবার গাবতলী হাট থেকে একটি গরু কিনেছেন এ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। সঙ্গে ৫ শতাংশ হাসিল পরিশোধ করেছেন। জানতে চাইলে বলেন, প্রতি কোরবানিতে কয়েকটি পশু কোরবানি দেন। গতকাল একটি কিনেছেন; কয়েক দিনপর আবারও পশু কিনতে ওই হাটে যাবেন। আর আগেভাগে পশু কিনছেন ঝামেলা এড়াতে। বাসায় তাদেরও পশু রাখার পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।

কোরবানির বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে গাবতলী হাট ইজারাদারের ক্যাশিয়ার মো. সোলাইমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেকে কোরবানির জন্য পশু কেনা শুরু করেছেন। এ জন্য বিক্রিও প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বিক্রি আরও বাড়বে। ক্রেতা-বিক্রেতা যেন সুন্দরভাবে কেনা-বেচা করতে পারেন; সে জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। আশা করি, কোরবানিতে পশুর কোনো সংকট হবে না। তবে পশু খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা ধরে পশু কিনতে হবে। আর ছোট গরুর ক্ষেত্রে মাংসের দাম ১ হাজার ধরে কিনতে হবে।