কোরবানির সামনে গবাদি পশুর অসুখে দুশ্চিন্তা

ঈদুল আজহার আগেই বরগুনায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে গবাদি পশুর লাম্পি স্কিন রোগ। রোগের লক্ষণ বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যু হচ্ছে গবাদি পশুর। প্রতিষেধক না থাকায় খুব সহসাই প্রতিকার করা যাচ্ছে না এ রোগটির। হঠাৎ এমন রোগের প্রকোপে দুশ্চিন্তার ছাপ পড়েছে খামারি ও ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে। রোগের ভয়াবহতা মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে শরীর, মুখমন্ডল থেকে পায়ে গুটি গুটি উপসর্গ নিয়ে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদি পশু। শুরুতে ১০৪-১০৬ মাত্রার উত্তাপ পর্যন্ত উঠছে গবাদি পশুর শরীরে। পরে শরীরে গুটি গুটি ফোড়া ওঠে। এই ভাইরাসের কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। অ্যালার্জি ও জ¦রের ওষুধ দিয়েই চলছে চিকিৎসা।

বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের নাসির হোসেন পেশায় রিকশাচালক। রিকশা চালানোর পাশাপাশি শুরু করেছেন গরুর খামার। তার খামারেও হানা দিয়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ। ইতিমধ্যে রোগের কারণে একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। ধারদেনা করে চিকিৎসা করেও বাঁচাতে পারেননি গরুটিকে। আরও একটি গরুর অবস্থা ভয়াবহ। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন তিনি। লাভের আশায় করা গরুর খামার তার জীবনে নিয়ে এসেছে দুর্দশার আঁধার।

নাসির হোসেন বলেন, ‘লা¤িপ স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার একটি গরু মারা গেছে, আরেকটি রোগে আক্রান্ত। গরুর চিকিৎসা করাতে আমি সর্বস্ব হারাচ্ছি। রিকশা চালিয়ে গরুর খামার করেছি। গরুটি মারা যাওয়ায় আমাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে আরও একটি ছোট গরু সাত-আট দিন ধরে আক্রান্ত। কী করব, কোথায় যাব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’

শুধু নাসির হোসেন নয়, বরগুনার ছয়টি উপজেলার সব খামারির একই অবস্থা। প্রত্যেকটি খামারেই কমবেশি হানা দিয়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ। ঈদুল আজহার আগে ছোঁয়াচে এই ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় গৃহস্থ ও খামারিদের চোখে-মুখে কষ্ট আর দুশ্চিন্তার ছাপ। বরগুনার একাধিক গৃহস্থবাড়ি আর খামার ঘুরে দেখা গেছে, এমন কোনো বাড়ি বা খামার নেই যে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গবাদি পশু নেই। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বাছুর। কোরবানির বাজারে এবার চড়া দামে গবাদি পশু বিক্রি হবে বলে মনে করেছিলেন খামারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এই রোগের কারণে আতঙ্কে গরু কিনতে পারছেন না ক্রেতারা।

এদিকে খামারি এবং কয়েকজন গৃহস্থ অভিযোগ করেছেন, প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে উদাসীন ভাব দেখাচ্ছেন। বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের বদরখালী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ খান বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমার একটি গরু মারা গেছে। হাসপাতাল গিয়ে প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তাদের কাছে গরুর চিকিৎসার জন্য পরামর্শ বা তাদের বাড়ি নিয়ে চিকিৎসার জন্য বলা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। 

জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ গবাদি পশু লা¤িপ স্কিন রোগে আক্রান্ত এবং ২ থেকে ৩ শতাংশ আক্রান্ত গবাদি পশু মারা গেছে। এ বছর বরগুনায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৪ হাজার। তবে এই রোগের কারণে বাজারে গবাদি পশুর সংকট পড়বে না বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

বরগুনা জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। ১২ থেকে ১৫ শতাংশ গবাদি পশু লা¤িপ স্কিন রোগে আক্রান্ত এবং ২ থেকে ৩ শতাংশ আক্রান্ত গবাদি পশু মারা গেছে। এ রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে রোগ নির্মূলে কাজ করা হচ্ছে। বাতিল করা হয়েছে সবার ছুটি।