বাগেরহাটের মোংলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার রোষানলে পড়ে ১২টি ভূমিহীন নিরীহ পরিবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ওই নেতার করা মিথ্যা মামলায় তারা জেল খেটেছেন। কাউকে মারধর করে ঘরছাড়া করা হয়েছে। কেউবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমনকি ভুক্তভোগী ওই ভূমিহীনরা উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া খাসজমিতে নিজেরা মাছ চাষ করেও তা ধরতে পারছেন না। রাতের আঁধারে মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। অভিযুক্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের। তিনি একটি হত্যা মামলারও আসামি। তার নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে ও বিচার দাবিতে গত বুধবার উপজেলার সোনাইলতলা এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, একসময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হন আবদুল কাদের। এলাকায় জোর করে অন্যের জমি দখল করে চিংড়ি চাষ করে হয়ে যান কোটিপতি। দীর্ঘকাল সরকারি খাসজমি দখল করেও মাছ চাষ করেছেন। মূলত ওই খাসজমি উপজেলা প্রশাসন সোনাইলতলা এলাকার ১২টি ভূমিহীন পরিবারকে মাছ চাষের অনুমতি দিলে ক্ষোভে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আবদুল কাদের।
সরেজমিনে উপজেলার সোনাইলতলা এলাকায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বললে তারা আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
ভূমিহীন জামিল ফকির বলেন, ‘আমার আপন চাচাতো ভাই আবদুল কাদের। দীর্ঘদিন সরকারি খাসজমি দখলে রেখে মাছ চাষ করছিল সে। পরে ওই জমি উপজেলা প্রশাসন আমাদের ১২ ভূমিহীন পরিবারকে মাছ চাষ করতে বন্দোবস্ত দেয়। সেই থেকে কাদের আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করে। আমরা সবাই জেল খেটে কদিন আগে জামিনে বেরিয়ে আসি। পাঁচ কাঠা করে জমি দিয়ে সরকার আমাদের মাছ চাষ করে সংসার চালানোর ব্যবস্থা করেছে। আমাদের অপরাধ কোথায়?’
ভূমিহীন রিনা বেগম বলেন, ‘সরকারের দেওয়া খাসজমিতে মাছ করে আসছিলাম। কিন্তু আবদুল কাদের রাতের আঁধারে সেই মাছ লুট করে নিয়ে যায়। আমি গরিব মানুষ, কোথায় যাব, এর বিচার চাই।’
সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকারী বনদস্যু গামাবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড গোলাম রসুল ফকির অভিযোগ করেন, ‘দস্যুতা করার সময় দুই দফায় ৯০ লাখ টাকা কাদেরের কাছে জমা রাখি। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে সে সোনাইলতলা এলাকার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল তালুকদারকে খুন করার জন্য প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় টাকা ফেরত দেয়নি। পরে শহিদুল তালুকদারকে ২০০৭ সালে ভাড়া করা এক খুনিকে দিয়ে হত্যা করে কাদের। এ হত্যাকান্ডের মূল আসামিও সে।’
আবদুল কাদেরের হয়রানি থেকে রেহাই পাননি খোদ উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদারও। তিনি বলেন, ‘খাসজমি জবর-দখলে রাখতে জাল দলিলের ওয়ারিশ কাম সার্টিফিকেট চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে চিংড়িঘের দখলের মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তার মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে আমিও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল কাদের বলেন, ‘খাসজমিতে মাছ চাষকারীরা পার্শ¦বর্তী আমার ৭৫ বিঘার চিংড়িঘের থেকে মাছ চুরি করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করি। এ ছাড়া হত্যা মামলায় আমাকে আসামি করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর দাশ বলেন, ‘আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও বিশেষ করে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া ভূমিহীনদের হয়রানির বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’