আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ফিরবে ইংল্যান্ড

টেস্টের প্রথম দিন ইনিংস ঘোষণার মতো চমক কটা দল দেয়। এজবাস্টনে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন এই কা- করে বসে ইংল্যান্ড। তারা জিতলে অবশ্য ৮ উইকেটে ৩৯৩ রানে ইনিংস ঘোষণার জয়জয়কার হতো। ম্যাচ ২ উইকেটে হেরে যাওয়ায় ওই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে এসেছে স্বাগতিকদের জন্য। তবে কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম নির্ভয়েই জানালেন তারা যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে চান তার পূর্ণ প্রতিফলন হয়েছে এজবাস্টনে। সামনে লর্ডসে আরও কঠোর হবে ইংল্যান্ড।

আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন হয়ে ‘বাজবল’ তৈরি করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাককালামের ছদ্মনাম ‘বাজ’। সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ক্যারিয়ার জুড়েই আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন হয়েছিলেন। সফল হন বা ব্যর্থ, তেড়েফুঁড়ে খেলা তার কখনই থামত না। তাই টেস্টে দ্রুততম সেঞ্চুরির (৫৪ বলে) রেকর্ডটা এখনো তার নামে। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে এ রেকর্ড ৫৬ বলে গড়েছিলেন সাবেক উইন্ডিজ গ্রেট ভিভ রিচার্ডস। সমান বলে সেঞ্চুরি করে মিসবাহ উল হক রিচার্ডসের পাশে বসেন ২০১৪-১৫-তে। কিন্তু এক বছর পর তাদের টপকে মাত্র ৫৪ বলে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েন ম্যাককালাম। এখানে তিনি যেমন সফল তেমনি ২০১৫ বিশ্বকাপ ফাইনালে মিচেল স্টার্কের প্রথম বলেই ব্যাট চালিয়ে বোল্ড হওয়ার ব্যর্থতাও কিন্তু আছে ম্যাককালামের।

ক্রিকেটার হিসেবে এ কিউই যেমন ছিলেন তেমনি কোচ হিসেবেও। ইংল্যান্ডের টেস্ট মেজাজ বদলে দিয়ে সাফল্য এনেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে রান

তুলেছেন নতুন খোলসে, ওভারপ্রতি ৪.৬১ রানে। পুরো ম্যাচজুড়ে এটা ইংল্যান্ডের গড় ওভার রান। সেদিকে অস্ট্রেলিয়া ছিল পুরনোকে আঁকড়ে। পুরো পাঁচদিনে গড়ে ৩.২০ রানরেটে রান তুলেছে তারা। আর ইংল্যান্ডের ইনিংসের বেশিরভাগ সময়ই রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সেট করেছে অস্ট্রেলিয়া।

২৮ জুন থেকে লর্ডসে শুরু দ্বিতীয় টেস্টেও আক্রমণাত্মক মেজাজটা ধরে রাখার কথা বলছেন ম্যাককালাম, ‘আমরা আমাদের ক্রিকেটটা খেলেছি, সেটা হলো ম্যাচকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। আমার দৃঢ় বিশ্বাস অস্ট্রেলিয়া তাদের খেলার স্টাইলটা দেখিয়েছে এবং এতে তারা খুশি। পুরো সিরিজজুড়েই অস্ট্রেলিয়া এভাবেই থাকবে, আমরা আমাদের মতো থাকব। এটাই এ লড়াইয়ে ভিন্নমাত্রা দেবে।’ এজবাস্টনে ইংল্যান্ড নিজেদের খেলাটার বৈধতা দিয়েছে বলে মনে করেন ম্যাককালাম, ‘খেলার ধরনই হলো একদল হারবে। কিন্তু আমার সামনে বড় চিত্রটা হলো আমরা নিজেদের খেলার ধরনকে বৈধতা দিয়েছি। ভাগ্যের একটু সহায় থাকলে আমরাই টেস্টটা জিততাম।’

সামনের টেস্টে দুদলের খেলার ধরনে কোনো পরিবর্তন দেখছেন না ম্যাককালাম। বরং জানালেন ইংল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে নামতে পারে, ‘আমি নিশ্চিত বিশ্বের যারাই টেস্টটি দেখেছে সর্বোচ্চ উপভোগ করেছে। দুদলই পরের ম্যাচের আগে ভালো বিশ্রামের সময় পেয়েছে। সামনের ম্যাচে দল সেই একই ব্র্যান্ডের ক্রিকেট নিয়ে ফিরবে। হতে পারে অস্ট্রেলিয়া একটু বেশি সময় নষ্ট করবে কারণ তারা একটি ম্যাচ জিতেছে কিন্তু আমরা একই মানসিকতায় থাকব। হয়তো আরেকটু আক্রমণাত্মক খেলব। আমি এবং আমাদের অধিনায়কের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস এটাই আমাদের নতুন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট।’