সেতুর গর্তে কাঠের সলিং ধসে গেছে পাশের রেলিং

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ঘেঁষা ঢালুয়া ইউপির চৌকুড়ী বাজার থেকে সাতবাড়িয়া ইউপির বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই কিলোমিটারের মধ্যে দুটি সেতু ও একটি কালভার্ট ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তর।

সাতবাড়িয়া, বক্সগঞ্জ ও ঢালুয়া ইউপির অন্তত ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু পার হয়। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

উপজেলা এলজিইডির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালের দিকে ডাকাতিয়া নদীর সাতবাড়িয়া ইউপির অংশে নাইয়ারা ও সাতবাড়িয়ায় নির্মিত সেতু দুটি ২০১৫ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে পুরনো সেতু ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করার কথা থাকলেও কোনো উদ্যোগ নেই এলজিইডি অধিদপ্তরের। ইতিমধ্যে সেতু দুটি নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা ও সেতুর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। ৩০ মিটার দীর্ঘ ও ৩ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের নতুন সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। তবে অর্থ বরাদ্দের অভাবে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ঘেঁষা ঢালুয়া ও সাতবাড়িয়া ইউপির যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাত্র সড়ক। এই সড়কের সাতবাড়িয়া বাজার থেকে চৌকুড়ী বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার। এর মধ্যে নাইয়ারা, সাতবাড়িয়া সেতু ও একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এতে এই দুই ইউপির আশপাশের গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সরিষাসহ অন্যান্য শস্য ট্রক্টার, ছোট ছোট ট্রলি, সিএনজি কিংবা রিকশা-ভ্যানে করে হাটবাজারে নিতে হয়। এখন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর পাড়ঘেঁষা ঢালুয়া ইউপির চৌকুড়ী বাজার সংলগ্ন নড়াইয়া সেতু। এর পাশে এলজিইডির টাঙানো ‘সাবধান! ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ’ লেখাসংবলিত সাইনবোর্ড। সেতুর মাঝখানে বিশালাকৃতির গর্ত তৈরি হয়েছে। সেই গর্তে কাঠের তক্তা বসিয়ে মানুষজন চলাচল করছে। সেই সঙ্গে ভেঙে গেছে পশ্চিম পাশের রেলিংও। এখন একেবারে ভারী যান চলাচল বন্ধ। আবার সেতুটির স্তম্ভসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষয় হয়ে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। এরপরও সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছোট যানবাহন ও এলাকাবাসী চলাচল করছে।

সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সাতবাড়িয়া সেতু। সেতু মাঝখানে বিশাল গর্তে স্টিলের পাত বসিয়ে দক্ষিণ আলিয়া সড়ক ও চৌকুড়ী নাইয়ারা সড়ক মিলিত হয়ে এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে মানুষজন। দুই পাশের রেলিংগুলোও ভেঙে গেছে। এ বিষয়ে সাতবাড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান শেখ কবির মজুমদার টুটুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডাকাতিয়া নদীর পাড়ঘেঁষা চৌকুড়ী নাইয়ারা সাতবাড়িয়া বাজার সড়ক। এই সড়কের মধ্যে দুটি সেতু ও একটি কালভার্ট রয়েছে। এখান দিয়ে সাতবাড়িয়া, বক্সগঞ্জ ও ঢালুয়া ইউপির অন্তত ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। পাশাপাশি অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতু দুটি ও কালভার্টটি ভেঙে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে নতুন সেতু নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্থানীয় সরকার (এলজিইডির) প্রকৌশলী আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, অর্থ বরাদ্দ পেলেই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।