১০ দিন ধরে খোঁজ নেই শিক্ষক দম্পতির

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় খোকন চন্দ্র রায় (৫৫) ও শিখা রানী রায় (৪৫) নামে এক শিক্ষক দম্পতি ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এই শিক্ষক দম্পতির সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়েও তাদের কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ শিক্ষক খোকন চন্দ্র রায় উপজেলার গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও স্ত্রী শিখা রানী রায় একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

জানা গেছে, গত ৮ জুন খোকন চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী শিখা রানী রায় বিদ্যালয়টিতে উপস্থিত হয়ে অন্যান্য দিনের মতো শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান। এরপর তারা ওই দিনই তিন দিনের ছুটি চেয়ে বিদ্যালয়ে একটি আবেদন জমা দেন। কিন্তু ১৪ জুন এই দম্পতির বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও ঈদের ছুটির আগে গত ২০ জুন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগ দেনি এবং গতকাল শনিবার এলাকায়ও পাওয়া যায়নি। শিক্ষক দম্পতির নিখোঁজ থাকার কথা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এলাকার সুদখোর-মহাজনদের চাপের মুখে শিক্ষক খোকন চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী শিখা রানী রায় নিজেদের কর্মস্থল ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে পারেন শিক্ষক দম্পতির সহকর্মীরা অনুমান করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক দম্পতি উপজেলার ঘাঘর বাজারের কাপড় ও মুদি ব্যবসায়ী, ধারাবাশাইল বাজারের মুদি ব্যবসায়ী, কাপড় ব্যবসায়ী, ভেন্নাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও পিঞ্জুরী গ্রামের একজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, এই দম্পতির চার সন্তান ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার কারণে প্রতি মাসেই তাদের ধারদেনা করে চলতে হতো। বর্তমানে তাদের চার সন্তানেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দম্পতির এক সহকর্মী।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক অমূল্য রতন হালদার বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক খোকন চন্দ্র রায় অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা এনেছিলেন। যাদের কাছ থেকে টাকা এনেছিলেন তারা প্রায়ই টাকার জন্য প্রধান শিক্ষক খোকন চন্দ্র রায়কে চাপ দিতেন। এই চাপের কারণে তিনি পালিয়ে থাকতে পারেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এভাবে ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোটালীপাড়া থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানা নেই। জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।