সিদ্ধিরগঞ্জে ডিপিডিসি কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্য!

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার হাত থেকে রেহাই পায়নি মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের স্ত্রী জমিলা খাতুন। কদমতলী কলেজ রোড এলাকার জিলানী বাড়ির এ গ্রাহকের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ৯০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ায় ডিপিডিসি এনওসিএস সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন জমিলা খাতুনের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া দুই লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করায় তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের মিটার রিডিং কালেক্টর মো. আনোয়ার হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির কো-অর্ডিনেটর মো. হাসানুল ইসলাম জনি ও মিটার রিডার  মো. হাসান গত ১৭ জুন জমিলা খাতুনের (মিটার নম্বর-১৬২৩০৫৭) বিলের কাগজ না দিয়ে বকেয়ার অজুহাতে মিটারের পেপার সিল ছিঁড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বকেয়া পরিশোধ করার পরও মিটারে রিডিং জমা আছে এবং মিটারটি নকল ও অবৈধ বলে হুমকি দিয়ে ৯০ হাজার টাকা উৎকোচ নেয়। আরও টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেবে না বলে ভয় দেখায়। গ্রাহক একজন মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের স্ত্রী হয়েও এমন হয়রানি হলে অন্যান্য সাধারণ গ্রাহকের কী অবস্থা তাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে একই প্রতিষ্ঠানের মিটার রিডিং কালেক্টর মো. আনোয়ার হোসেন গত ১৮ জুন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন, দুই লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় সহযোগীদের নিয়ে ১৭ জুন সন্ধ্যায় তাকে মারধর করেন হাসানুল ইসলাম জনি।

এ ছাড়াও হাসানুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোদনাইল বার্মাশীল এলাকার গ্রাহক রাশিদা বেগমের (মিটার নম্বর ৮১৮৩৪০) মিটার নষ্ট দাবি করে মিটার টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তুলে লাল নোটিস ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাড়ে তিন লাখ টাকা ঘুষ নেয় হাসানুল ইসলাম জনি। এস ও এলাকার স্বপন নামে এক গ্রাহককে লাল নোটিস দিয়ে লাইন বিচ্ছিন্ন করে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করলেও পরে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আবার সংযোগ দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে বলে গণমাধ্যমে কথা বলতে চাননি হাসানুল ইসলাম জনি।

ডিপিডিসি সিদ্ধিরগঞ্জ ও ডেমরা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসানুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’