ঢাকা জেলার আশুলিয়ার বাসিন্দা বিমল চন্দ্র মণ্ডল হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলা ইউনিট। দুটি সিগারেটের শেষাংশের সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। হত্যাকারী মো. হাফেজকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৬ এপ্রিল খুন করা হয় বিমলকে।
পিবিআই জানিয়েছে, বিদেশ যেতে টাকা জোগাড় করছিলেন মো. হাফেজ। এজন্য দুটি অটোরিকশা চুরি করে বিক্রি করেন। এরপর বিমল চন্দ্র মন্ডল নামে একজনের বাসায় চুরি করতে গিয়ে তাকে হত্যা করেন তিনি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা। তিনি বলেন, নিহত বিমল সপরিবারে আশুলিয়ার জামগড়া মনির মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি বাসায় থাকতেন। তার স্ত্রী ও মেয়ে তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। গত ১৬ এপ্রিল প্রতিদিনের মতো বিমলের স্ত্রী এবং মেয়ে অফিসে চলে যান। ওইদিন তিনি একাই বাসায় অবস্থান করছিলেন। অফিস শেষে বিকেলে বিমলের মেয়ে পূর্ণিমা রানী মণ্ডল বাসায় গিয়ে তার বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মুখের ভেতরে কাপড় কাটার কাঁচি (সিজার) ঢোকানো অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় বিমলের স্ত্রী পারুল অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানার মামলা করেন।
পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা আরও বলেন, খুন হওয়ার ছয় মাস আগে বিমল স্ট্রোক করেন। তখন থেকে তিনি ধূমপান ছেড়ে দেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের দিন বিমলের বাসায় সিগারেটের দুটি শেষাংশ পাওয়া যায়। আর এ সিগারেটের শেষাংশের সূত্র ধরেই তদন্ত অগ্রসর হতে থাকে এবং বেশ কয়েকজনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে হাফেজকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি খুনে কথা স্বীকার করেন।