নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার স্কুলছাত্রী সারমিন আক্তার মানবেতর জীবনযাপন করছে। আর্থিক অভাবে তার পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে লক্ষীবরদী গ্রামের খোকন মিয়ার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার। সন্তানের মধ্যে সারমিন মেজ। মুখের অস্বাভাবিক গঠন নিয়ে জন্ম নেওয়া সারমিন এখন নোয়াগাঁও হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। দরিদ্র বাবার উপার্জনের টাকায় তাদের দুবেলা খাবার খরচই চলে না। অভাব অনটনে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটে তাদের। তাই অর্থাভাবে মেধাবী সারমিনের এখন পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
নোয়াগাঁও হাই স্কুলের প্রবীণ শিক্ষক আলী হোসেন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও সারমিন যেভাবে কষ্ট করে লেখাপড়া করছে তাকে নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত। আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে তার পড়াশোনার খরচ চালানোটা সহজ হতো।
সারমিন আক্তার বলেন, কথা বলতে গেলেই মুখে প্রচন্ড ব্যথা হয়। মুখে ঘা হয়ে কালো দাগও হয়েছে। নিজের কষ্টের কথা মুখে প্রকাশ করতে পারি না। লেখাপড়া করে চাকরি করতে চাই।
সারমিনের মা রেখা বেগম বলেন, জন্মের পর থেকে বিভিন্ন চিকিৎসা দিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। ঠান্ডার সময় সে কানে কম শোনে, চোখেও কম দেখে। টাকার অভাবে আমরা তার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, মুখের গঠন অস্বাভাবিক হওয়ায় তার সঙ্গে কেউ মিশতে চায় না। বাড়ির বাইরে গেলে কেউ কেউ তাকে দেখে বিরূপ মন্তব্য করে। সমাজের কিছু মানুষের নানা রকম উক্তি সহ্য করেই শত দুঃখকষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন তিনি। এত কষ্টের মধ্যেও তাকে পড়াশুনা করাতে পেরে আমি খুব খুশি।
সোনারগাঁ উপজেলা সমাজসেবা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাকিবা সুলতানা বলেন, সারমিন আক্তার নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। প্রয়োজনে তাকে হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।