ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ওপর ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক উইলিয়াম বার্নস। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধ গোয়েন্দা সংস্থাটির জন্য ‘সুযোগ’ হিসেবে হাজির হয়েছে। এক প্রতিবেদনে সিআইএ প্রধানের এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বার্নসের সাম্প্রতিক ইউক্রেন সফর, রাশিয়ায় বিদ্রোহের পর রুশ গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে তার ফোনালাপ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। এর বরাতে সিএনএনের এই প্রতিবেদন। এছাড়া বার্নস নিজেই গত শনিবার যুক্তরাজ্যের ডিচলে ফাউন্ডেশনে ইউক্রেন যুদ্ধ ও রুশ দুর্বলতা নিয়ে কথা বলেন।
এই অনুষ্ঠানে তিনি ইউক্রেনে পুতিনের হামলা চালানোর বিষয়টি ‘এখন আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জন্য সবচেয়ে জরুরি ও তীব্র ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। সিআইএ প্রধান দাবি করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ মস্কোর জন্য ‘কৌশলগত পরাজয়’। কেননা, এর মাধ্যমে তাদের সামরিক দুর্বলতা ফুটে উঠেছে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধটা সুযোগ হয়ে এসেছে সিআইএর জন্য।
উইলিয়াম বার্নস বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে নাজুক পরিস্থিতি, অসন্তোষ রুশ নেতৃত্বকে ক্রমে দুর্বল করবে, আর এটাই সিআইএর জন্য এক প্রজন্মের সুযোগ তৈরি করেছে।’ এ সুযোগ হলো গোপন তথ্য সংগ্রহের সুযোগ, কারণ সিআইএর মূল শক্তিই হলো মানুষের মাধ্যমে সংগৃহীত গোপনীয় তথ্য। যুদ্ধ এই তথ্যপ্রাপ্তির সহজ সুযোগ করে দিয়েছে, যা হেলায় হারাতে চান না সিআইএ প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ আমরা বৃথা যেতে দেব না।’ যুদ্ধের সুযোগে রাশিয়ার অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে সম্প্রতি সিআইএর টেলিগ্রামে পোস্টের উদাহরণ টানেন বার্নস। রাশিয়া থেকে গুপ্তচর সংগ্রহের লক্ষ্যে সিআইএ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে প্রচারণা চালাতে শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে টেলিগ্রামে পোস্ট করা হয় একটি ভিডিও। রাশিয়াতে লোকজনের কাছে এই সামাজিক মাধ্যমটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ওই ভিডিওতে নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে ডার্ক ওয়েবের (ইন্টারনেটের গভীর, গোপনীয় জগৎ) মাধ্যমে সিআইএর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে সে বিষয়ে কিছু নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। ওই প্রচারণার প্রভাব তুলে ধরে বার্নস বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহে পোস্টটি ২৫ লাখ বার দেখা হয়েছে।’
রাশিয়ার দুর্বলতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নিয়ে সিআইএ প্রধান এমন এক সময় এসব বললেন যখন সদ্য বিদ্রোহের ধাক্কা সামলে উঠছে ক্রেমলিন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কর্মকর্তাদের মতো সিআইএ পরিচালক বার্নস আবারও বলেছেন যে, ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের সেই বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রিগোজিনের বিদ্রোহের পর রুশ ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এসভিআর) পরিচালক সের্গেই নারিশকিনের সঙ্গে উইলিয়াম বার্নসের ফোনালাপ হয়। সেই ফোনালাপে বিদ্রোহের সঙ্গে সিআইএর সংশ্লিষ্টতা নেই বলে এসভিআর পরিচালককে জানান।
তবে ওয়াশিংটন পোস্টে সম্প্রতি একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ওয়াগনারের বিদ্রোহের আগে তিনি গোপনে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফর করেছিলেন। যদিও এই প্রতিবেদনের বিষয়ে বার্নস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।