তৈলারদ্বীপ সেতুতে বাড়তি টোল আদায়

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কের তৈলারদ্বীপ সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএ ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন সেতুতে চলাচলরত পরিবহনশ্রমিকরা।

জানা যায়, প্রায় ৩২ কোটি টাকায় জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল আদায়ের ইজারা পায় জেএ ট্রেডিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরকার নির্ধারিত একটি টোলের তালিকা সরবরাহ করে দোহাজারী সড়ক বিভাগ। গত শনিবার থেকে সেতুতে টোল আদায় শুরু করেন ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। কিন্তু সরকারি টোল তালিকার তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত হারে টোল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবহনশ্রমিক ও যাত্রীরা।

সরকার নির্ধারিত টোল তালিকা অনুযায়ী, হেভি ট্রাক ১৮০, মিডিয়াম ট্রাক ১৫০ ও মিনি ট্রাক ১১৫ টাকা টোল ধার্য করা হলেও আদায় করা হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে। এ ছাড়া মাইক্রোবাস-নোহা গাড়ির টোল ৬০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৮০ টাকা। ফলে টোল আদায়কারীদের সঙ্গে গাড়ির চালকদের প্রতিনিয়ত বাগ্বিত-ার ঘটনা ঘটছে। অতিরিক্ত টোল দিতে না চাইলে চালকদের মারধরসহ হেনস্তা করছেন ঠিকাদারের লোকজন।

ট্রাকচালক আবদুর রহিম বলেন, ‘সেতুতে তারা ডাকাতি করতে বসছে। মিডিয়াম ট্রাকের টোল ১৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও আদায় করছে ৩০০ টাকা। টাকা না দিলে ট্রাক আটকে রেখে মারধর করে।’

আরেক মিনি ট্রাকের শ্রমিক জেবল হোসেন বলেন, ‘চার্টে লেখা আছে টোল ১১৫ টাকা, তারা দাবি করছে ১৫০ টাকা। এক টাকা কম দিলেও নাকি হবে না।’

এ বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী জহির উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে টোল আদায়কারীরা জানান, কোম্পানি যেভাবে টোল আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে, সেভাবেই আদায় করা হচ্ছে।’

দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত টোলের বাইরে বেশি টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’