সিলেটে গৃহকর্মী এক কিশোরীকে বিভিন্ন অপবাদ-অজুহাতে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ নার্স ও তার স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে। গৃহকর্মী জান্নাত (১৩) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল সোমবার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোছা. জান্নাতের (১৩) বাবা জাকির হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানারওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ।
মামলার আসামিরা হলেন- সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স শাহনাজ আক্তার সাবিহা, তার স্বামী পলাশ মিয়া ও বোন রেহেনা আক্তার রুমি।
ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, ওই গৃহকর্মী নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে সে হাসাপতালে চিকিৎসাধীন। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চলাচ্ছে। আসামিরা পলাতক রয়েছে।
মামালার এজাহারে বলা হয়েছে- জান্নাতের (১৩) বাবা মো. জাকির হোসেনের বাড়ি ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স শাহনাজ আক্তার সাবিহার বাবার বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকার চৈলাখেল গ্রামে। সেই সুবাদে জাকিরের মেয়ে জান্নাতকে শাহনাজ তার বাসায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে মাসিক ১৫শ’ টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নেন। কিন্তু ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই জান্নাতের ওপর নেমে আসে বর্বর নির্যাতন। ভাত বেশি খাওয়াসহ বিভিন্ন অপবাদ-অজুহাতে জান্নাতকে শাহনাজ ও তার স্বামী এবং বোন বেধড়ক মারধর করেন। এমনকি স্টিলের খুন্তি গরম করে জান্নাতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করতেন তারা। দেড় বছরে একবারও জান্নাতকে বাবার বাড়ি যেতে দেননি শাহনাজ।
এবার ঈদুল আজহায় শাহনাজ তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। তার সঙ্গে যায় জান্নাতও। পরে সেখান থেকে জান্নাত তার বাবার বাড়ি গেলে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পরিবারের লোকজনের চোখে পড়ে।
এ সময় তারা জিজ্ঞাসাবাদ করলে জান্নাত তার ওপর নির্যাতনের কথা খুলে বলে। তখন জান্নাত তার বাবাকে জানায় নির্যাতনের কথা বলেছি শুনলে ‘ম্যাডাম’ আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। এজন্য এতদিন আমি কাউকে কিছু বলিনি।