হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় হিন্দু পরিবারের জমি দখল, মাদক সেবন ও ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে।

মো.আরিফুল ইসলাম আরিফ উপজেলার কিংজাল্লা এলাকার ইব্রাহিম সরকারের ছেলে। তিনি বর্তমান কমিটির উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার চাচা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি লতিফ সরকার। চাচার মদদেই আরিফ পুরো উপজেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ ২০১৬ সালের মে মাসে ইসলামপুর শহরের রেলগেট এলাকায় দিলিপ নামের এক হিন্দু পরিবারের দেড় শতাংশ জমি জোর পূর্ব দখল করে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে দিলিপ বলেন, আরিফ তার লোকজন নিয়ে হঠাৎ করে আমার প্রায় দেড় শতাংশ জমি দখল করে নেয়। জমিটার মধ্যে দোকান ছিল। সেই দোকান একজনকে দিয়ে সে এখন ভাড়া তোলে। আরিফের ক্ষমতার জোরে আমাকে আইনগত ব্যবস্থাও নিতে দেয়নি। এখন আমি মানবেতর জীবনযাপন করছি।

এ ছাড়া যুবলীগ নেতা আরিফের কর্মকাণ্ডে কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে তাকে পঙ্গুত্ব বরণও করতে হয়। তেমনই একজন রবিউল ইসলাম রবি। আরিফের সশস্ত্র হামলায় আড়াই বছর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন রবিউল ইসলাম।

রবিউল ইসলাম রবির বাড়ি ইসলামপুর পৌর শহরে। তিনি ঢাকায় কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা করেন। তিনি আরিফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে বলেন, ‘২০১৮সালের ২মার্চ সন্ধ্যার দিকে সশস্ত্র অবস্থায় আরিফের নেতৃত্বে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায়। আমার দুই পা ও হাত একদম ভেঙে টুকর-টুকর করে দিয়েছিল। আমাকে নির্মমভাবে মারা হয়েছিল। আমার মারা যাওয়ারই কথা ছিল। শুধু আল্লাহ নিজে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি আড়াই বছর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলাম। এখনও আমি স্বাভাবিক হতে পারিনি’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অপরাধ ছিল আরিফ তার এক আত্মীয়ের পক্ষে স্থানীয় একটি নির্বাচনে প্রকাশ্যে সিল মেরে ভোট নিচ্ছিল। আমি শুধুমাত্র প্রকাশ্যে সিল মারতে আরিফকে নিষেধ করেছিলাম। সেই অপরাধে আরিফের নেতৃত্বে আমাকে নির্মমভাবে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছিল। হামলার পরিণতি ভোগ করতে হয় এখনও আমাকে। এখনও মামলা চলমান রয়েছে।

আরিফের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এর সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে মেলে আরিফের বিরুদ্ধে একটি মাদকের মামলার তথ্য। মামলার এজাহারে উল্লেখ্য করা হয়েছে, ২০১৮সালের ১৯জুন ইসলামপুর কলেজের পুরাতন ভবনের পূর্বপাশে ইসলামপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মো. আরিফুল ইসলাম আরিফসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে ১৫পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটও জব্দ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে, আরিফুল ইসলাম আরিফকে প্রধান আসামি করে, একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় আটদিন কারাগারেও ছিলেন আরিফ। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন যুবলীগের নেতা জানিয়েছেন, তিনি একজন নিয়মিত মাদক সেবনকারী। শুধু তাই নয় তার নেতৃত্বে উপজেলায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়। তার কারণে অনেক তরুণ যুবক নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তার মদদে দলের মধ্যে অনেক নেতা-কর্মী মাদক সেবী হচ্ছেন।

এই প্রসঙ্গে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহা রাজু বলেন, এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসে নাই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে’।

এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘এসব ষড়যন্ত্র ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। রাজনীতি করি তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এসব মামলা দেওয়া হয়েছে।