শান্তির যাত্রা অশান্তির উসকানি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইস্তাম্বুল সফরে গেছেন। বৃহস্পতিবার তুর্কি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার ইস্তাম্বুল গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। জেলেনস্কি ও এরদোয়ানের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা গতকাল রাত অবধি জানা যায়নি। তবে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির চুক্তির পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনের বিষয়ে আলোচনা হবে।

অনেক বিশ্লেষক বলছেন, জেলেনিস্কর এ সফর যুদ্ধ বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাস্টার বোমা পাঠানোর সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের বক্তব্য যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে বলেই মনে করছেন তারা।

গতকাল তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদুলুর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির মেয়াদ শেষ হওয়া চুক্তির পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনের বিষয়েও আলোকপাত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলেনস্কি ও এরদোয়ান উভয়েই রাশিয়ার সঙ্গে শস্যচুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চাইছেন। এই চুক্তির অধীনে যুদ্ধকালে ইউক্রেনীয় ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য বিশ^বাজারে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এরদোয়ানের। যুদ্ধ বন্ধের জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছেন তিনি। কৃষ্ণ সাগরীয় শস্যচুক্তি স্বাক্ষর ও আগের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো সদস্য তুরস্কের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ন্যাটো জোটের সম্প্রসারণে আপত্তির কারণে সন্দিহান পশ্চিমা সরকারগুলো।

অবশ্য গত বৃহস্পতিবার রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষ থেকে ৪৫ জন করে সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে যুদ্ধবন্দিবিনিময় ঘোষণা করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের হেফাজত থেকে ৪৫ রুশ সেনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্টাফের প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমাক বলেন, ৪৫ সেনাকর্মী এবং দুজন বেসামরিক নাগরিককে ইউক্রেনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের একটি পোস্টে, ইয়ারমাক বলেছেন যে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন মারিউপোল এবং দক্ষিণ শহরের আজভস্টাল স্টিল প্ল্যান্টে লড়াই করেছিলেন এবং অন্যরা অন্য কোথাও ফ্রন্টলাইনে লড়াই করেছিলেন। আলজাজিরা বলছে, জেলেনস্কির তুরস্কে সফরের আগে এই বিনিময়ও ইতিবাচক কিছু ইঙ্গি দেয়। তবে ইউক্রেনে ক্লাস্টার বোমা পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত তাতে নতুন প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ১০০টির বেশি দেশ কর্র্তৃক নিষিদ্ধ এই অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে নানা উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ১৫৫ মিলিমিটারের হাউইৎজার কামান থেকে ছোড়া ক্লাস্টার গোলাবারুদসহ অস্ত্রের একটি প্যাকেজ খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনসহ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী গত সপ্তাহে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব অস্ত্র পাঠানোর সুপারিশ করেন। ১২০টির বেশি দেশ ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’বিষয়ক ২০০৮ সালের জাতিসংঘ কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো মার্কিন মিত্ররাও এই অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।

তবে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। যদিও ২০০৯ সালের একটি আইনে ১ শতাংশের বেশি ক্লাস্টার গোলাবারুদ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিবেচিত ক্ষেত্রে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে পারেন।